ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার মানবেতর জীবন নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। প্রতি মুহূর্তে প্রাণ বাঁচানোর লড়াই করছেন যুদ্ধবিধ্বস্ত ভূখণ্ডটির বাসিন্দারা। অধিকাংশ মানুষের মাথার ওপর ছাদ নেই, নেই পর্যাপ্ত খাদ্য-ওষুধ। পরিষ্কার পানির অভাবের পাশাপাশি শ্যাম্পু, সাবান, চিরুনি ও স্যানিটারি পণ্যের মতো প্রয়োজনীয় জিনিস খুব কম বা নেই বললেই চলে।
গাজায় সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী নারী ও শিশুরা। গাজার নারী ও শিশুদের বর্তমান স্বাস্থ্য সমস্যা নিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলেন শিশু বিশেষজ্ঞ লোবনা আল-আজাইজার। অবরুদ্ধ গাজায় চিকিৎসা সেবা দিয়ে চলেছেন তিনি। শিশু বিশেষজ্ঞ হলেও এখন তাঁর কাছে সব বয়সের মানুষই চিকিৎসা নিতে আসেন।
লোবনা জানান, তাঁর কাছে অনেকে ত্বকের সংক্রমণের সমস্যা নিয়ে আসেন। এদের মধ্যে অনেক মেয়ে জানিয়েছেন, তাদের চুল আঁচড়ানোর চিরুনি পর্যন্ত নেই। পরিস্থিতি বিবেচনা করে তাদের চুল কেটে ফেলার পরামর্শ দিয়েছেন লোবনা। বাধ্য হয়ে অনেক মেয়ে চুল কেটে ফেলছে বলে জানান তিনি।
লোবনা বলেন, ‘আগে আমরা সবচেয়ে সাধারণ যে রোগ দেখেছি তা হলো ফুসকুড়ি ও চর্মরোগ। শরণার্থীশিবিরে কম জায়গায় অনেকে থাকা, তাঁবুর ভেতরে অসহনীয় গরম, শিশুদের অতিরিক্ত ঘাম এবং গোসলের জন্য পর্যাপ্ত পানির অভাব এর কারণ।’
বেইত লাহিয়ার কামাল আদওয়ান হাসপাতালে কাজ করতেন চিকিৎসক লোবনা। ইসরায়েলি বাহিনী গাজাকে উত্তর ও দক্ষিণে ভাগ করলে তিনি সেখান থেকে চলে আসেন। তবে গাজার বেশিরভাগ চিকিৎসকের মতো তিনিও চিকিৎসা দেওয়া অব্যাহত রেখেছেন।
টানা ১০ মাস ধরে ইসরায়েলি হামলা ও অবরোধে বিধ্বস্ত পুরো গাজা উপত্যকা। হাজার হাজার প্রাণহানির পাশাপাশি ভয়াবহ মানবিক সংকট বিরাজ করছে সেখানে। গাজায় বর্জ্য ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাও ভেঙে পড়েছে।