নারী ও শিশুর যৌন হয়রানির বিষয়ে আইন কী বলে

আমাদের আশপাশের এমন অনেক ঘটনা শোনা যায় যে, স্কুল–কলেজে পড়ুয়া মেয়েদের যৌন হয়রানি করা হয়েছে। আর এ ঘটনার পর ভুক্তভোগী ও তার পরিবার থেকে টাকা চাওয়া হয়েছে। আবার টাকা না দিলে ক্ষতি করতে পারে এমন হুমকিও দেওয়া হয়েছে।

এ ধরনের ঘটনা জানাজানি হলে মান-সম্মানের কথা ভেবে ভুক্তভোগীর পরিবার তেমন কারও কাছে সাহায্য চাইতে পারে না। কিন্তু এক্ষেত্রে ভুক্তভোগী যদি অন্যায়কে প্রশ্রয় না দিয়ে অপরাধীকে শাস্তি দিতে চান তাহলে তাকে আইনের সাহায্য নিতে হবে।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০–এর আওতায় নারী ও শিশুর যৌন হয়রানির অপরাধে পাঁচ থেকে দশ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। উপরন্তু এসব ঘটনার ক্ষেত্রে অপরাধী টাকা চেয়ে প্রতারণাও করে। তাই এসব অপরাধের ক্ষেত্রে আইনের কথা বিবেচনা করে ভুক্তভোগীর প্রয়োজন পুলিশের কাছে যাওয়া।

নির্যাতনের শিকার ভুক্তভোগী নারী নিজে বা তার পক্ষে অন্য কেউ নিকটস্থ থানায় লিখিত আকারে অভিযোগ দায়ের করতে পারেন। নির্যাতিত নারীও আদালতে সরাসরি আবেদন করতে পারেন। যেখানে আদালত নির্যাতনের ঘটনাটি শুনবেন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

ইফফাত গিয়াস আরেফিন, অ্যাডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট। ছবি: সংগৃহীতএছাড়া নির্যাতিত নারী প্রটেকশন অফিসারের মাধ্যমে অভিযোগ দায়ের করতে পারেন। প্রটেকশন অফিসার নির্যাতনের ঘটনা তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন। তাছাড়া কোনো এনজিও মাধ্যমে নির্যাতিত নারী অভিযোগ দায়ের করতে পারেন।

অনেকে বলেন, মামলা করে তারা সম্মান হারাতে চান না। এক্ষেত্রে অপরাধীকে শাস্তি দিতে পারবেন না। ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের উচিত পার্শ্ববর্তী থানায় গিয়ে বিষয়টি জানানো। বিষয়টি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এজাহার হিসেবে গণ্য করলে তিনি ঘটনাটি প্রাথমিক তথ্য বিবরণী ফরমে লিপিবদ্ধ করবেন। পরে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট এখতিয়ারসম্পন্ন হাকিম আদালতে প্রেরণ করবেন।

এখতিয়ারাধীন হাকিম তা গ্রহণ করলে ওই মামলার প্রতিবেদন প্রদানের জন্য একটি তারিখ ধার্য করবেন। এবং পরবর্তী সময়ে মামলাটির পুলিশ প্রতিবেদন প্রাপ্তি সাপেক্ষে উপযুক্ত আদালতে পাঠাবেন। উক্ত আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আসামির জেল জরিমানা হবে।

কোনো কারণে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) যদি অভিযোগটি গ্রহণে অসম্মতি প্রকাশ করেন, তাহলে থানায় কারণ উল্লেখ করে মামলাটি গ্রহণ করা হয়নি মর্মে আবেদনপত্র সঙ্গে নিয়ে সরাসরি আদালতে মামলা করা যাবে।

প্রতীকী ছবিএ ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীকে একজন আইনজীবীর সঙ্গে দেখা করতে হবে। আপনি যদি থানায় মামলা করেন, তাহলে ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯২ ধারা অনুযায়ী আপনি সরকারের পক্ষ থেকে আইনজীবী পাবেন। তিনি মামলার সব তত্ত্বাবধান করবেন। যদি আপনি নিজে আইনজীবী নিয়োগ দিতে চান, তাহলে সেই আইনজীবী সরকারি আইনজীবীর অধীনে কাজ করবেন। সরকারের পক্ষ থেকে নিয়োগ দেওয়া আইনজীবীকে কোনো খরচ দিতে হবে না।

থানায় মামলা না করে যদি কোর্টে মামলা করেন, তাহলে আপনাকে নিজস্ব আইনজীবী নিয়োগ করতে হবে। মামলার খরচ আপনাকে বহন করতে হবে। খরচের পরিমাণ কত হবে, তা নির্দিষ্ট করে বলা খুব কঠিন।

লেখক: অ্যাডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট