মে মাসে ৩৬৮টি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে: এমএসএফ

চলতি বছরের মে মাসে ৩৬৮টি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। যা গত মাসের তুলনায় ৬টি বেশি। গত মাসে এর সংখ্যা ছিল ৩৬২। এ মাসে ধর্ষণের ৫৯টি, সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ১৬টি, ধর্ষণ ও হত্যার ৫টি ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৬ জন প্রতিবন্ধী কিশোরী ও নারী।

মানবাধিকার সংগঠন মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) প্রেরিত ‘মানবাধিকার পরিস্থিতি মনিটরিং প্রতিবেদন মে, ২০২৫–এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। বিভিন্ন পত্রিকার তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রতি মাসে এমএসএফ এই প্রতিবেদন তৈরি করে। ৩১ মে এ প্রতিবেদন গণমাধ্যমে পাঠায় মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মে মাসেও দেশে নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা যেমন– ধর্ষণ, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, যৌন হয়রানি ধারাবাহিকভাবে চলছে। মে মাসে আত্মহত্যা, হত্যা, পরিবারিক সহিংসতা ও শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে, যা গত মাসের তুলনায় কিছুটা কমলেও তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক ছিল। নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যে দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা, তা দৃশ্যমান নয়। আবার তার উপর রয়েছে বিচারহীনতা ও বিচারের দীর্ঘসূত্রিতা।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত মাসে ধর্ষণের শিকার ৫৯ জনের মধ্যে ১০ জন শিশু, ২১ জন কিশোরী রয়েছে, অপরদিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৭ জন কিশোরী ও ৯ জন নারী এবং ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হয়েছেন ৩ জন শিশু ও ২ জন নারী। ৯ জন শিশু, ১৫ জন কিশোরীসহ মোট ধর্ষণের চেষ্টা ৩১টি, যৌন হয়রানি ৪৭টি, শারীরিক নির্যাতনের ৬২টি ঘটনা ঘটেছে।

এছাড়া মে মাসে ২১ জন কিশোরী ও ২১ জন নারীসহ মোট ৪২ জন আত্মহত্যা করেছেন। অপহরণের শিকার হয়েছেন ৫ জন কিশোরী। ২ জন নারী, ২ জন শিশু ও ২ জন কিশোরী নিখোঁজ রয়েছেন। মে মাসে ১ জন শিশু, ৫ জন কিশোরী ও ১০ জন নারীর অস্বাভাবিক মৃত্যুসহ মোট ৮৬ জন শিশু, কিশোরী ও নারী হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। যার মধ্যে ১৯ জন শিশু ও কিশোরী রয়েছেন। পারিবারিক বিরোধ, যৌতুক, প্রেমঘটিত, হতাশা ও অভিমান ইত্যাদি কারণে এ হত্যাকাণ্ড ও আত্মহত্যাগুলো সংঘটিত হয়েছে।