বৃত্ত ভেঙে নারী-পুরুষের সমতাপূর্ণ সমাজ গড়ে তুলতে হবে

নারীমুক্তি আন্দোলনের পুরোধা ব্যক্তিত্ব কবি সুফিয়া কামাল। সুফিয়া কামালের লড়াই  সামনে রেখে সমতাপূর্ণ সমাজ গড়ার যে স্বপ্ন নিয়ে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি, সেই পথচলা অব্যাহত রাখতে হবে। কবির জীবনের পরিক্রমা পর্যালোচনায় দেখা গেছে, নারী আন্দোলনে সকলের অংশগ্রহণের কথা তিনি বহুবছর আগেই বলে গেছেন। আমরা যে বৃত্তে আছি, সেই বৃত্ত ভেঙে নতুন করে নারী-পুরুষের সমতাপূর্ণ সমাজ গড়ার কাজ করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের মূল বাণী সমতা, সাম্য, মর্যাদাকে ধারণ করে এগিয়ে যেতে হবে। নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে নারীর পাশাপাশি পুরুষকে পিতৃতন্ত্রের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কবি সুফিয়া কামালের ১১৪তম জন্মবার্ষিকী পালন উপলক্ষে সুফিয়া কামাল স্মারক বক্তৃতা, সুফিয়া কামাল সম্মাননা প্রদান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। স্মারক বক্তৃতা অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ডা. ফওজিয়া মোসলেম এসব কথা বলেন। ২০ জুন বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। স্মারক বক্তৃতার বিষয় ছিল ‘সুফিয়া কামাল: বাধা পেরিয়ে নারীর অভিযাত্রা’।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক উম্মে সালমা বেগম। স্মারক বক্তৃতা প্রদান করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সামিনা লুৎফা। সুফিয়া কামাল সম্মাননা প্রদান করা হয় বরেণ্য চিত্রশিল্পী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক রফিকুন নবীকে।

অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন বিশিষ্ট রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী ইফ্ফাত আরা দেওয়ান, বিশিষ্ট রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী এ. এম. এম. মহীউজ্জামান চৌধুরী (ময়না) এবং বিশিষ্ট রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী ও ছায়ানটের সাধারণ সম্পাদক লাইসা আহমদ লিসা। আবৃত্তি পরিবেশন করেন কণ্ঠশীলনের আবৃত্তি শিল্পীবৃন্দ। স্মারক বক্তৃতা শেষে সুফিয়া কামাল সম্মাননাপ্রাপ্ত ব্যক্তির পরিচিতি পাঠ করেন রীনা আহমেদ।

স্মারক বক্তৃতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সামিনা লুৎফা বলেন, ‘কবি সুফিয়া কামাল কেবল কবি হিসেবে নয়, সবসময় তিনি নারী অধিকারের প্রশ্নে সামনের সারিতে ছিলেন। তিনি বিজয়ের ক্ষণে যেমন ঋজু, লড়াইয়েও তেমনি সমান শক্তি নিয়ে দাঁড়ান আমাদের অলক্ষ্যে থেকেও। নারীর প্রতি সহিংসতার অবসান ও সমতাভিত্তিক অংশীদারিত্ব নিশ্চিত এবং পরিবেশগত ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা করতে হলে নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বরকে দমিয়ে রাখার রাজনীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার ও সচেতন থাকতে হবে।’

সুফিয়া কামাল সম্মাননা প্রদান করা হয় বরেণ্য চিত্রশিল্পী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক রফিকুন নবীকে। ছবি: সংগৃহীতঅধ্যাপক ড. সামিনা লুৎফা আরও জানান, রাজনীতিতে নারী ও প্রান্তিকের উপস্থিতি ও প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে হবে। মজুরি, পদমর্যাদা এবং নিয়োগের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের বৈষম্য দূর করতে হবে। পারিবারিক সম্পদ-সম্পত্তি ও উত্তরাধিকারে সমান অধিকার নিশ্চিতসহ নারীর বিরুদ্ধে সকল ধরনের সহিংসতার বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

স্বাগত বক্তব্যে সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেন, ‘সুফিয়া কামাল সমাজ প্রগতির আন্দোলনকে অগ্রসর করে নিয়ে গেছেন। তাঁর সংগ্রামের মশাল গত ৫৫ বছর ধরে সংগঠন বহন করে চলেছে। সমাজ সচেতন মানবতাবাদী লেখক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছেন। একইসঙ্গে সকল ধরনের বৈষম্য, সাম্প্রদায়িকতা, ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন, প্রতিবাদে সোচ্চার থেকেছেন।’