নারী আন্দোলন ও গণমাধ্যম একে অপরের পরিপূরক। জেন্ডার বৈষম্যকে প্রতিহত করা না গেলে নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধ হবে না। সমাজ পরিবর্তন করতে গেলে প্রথমে নিজেকে পরিবর্তন করতে হবে, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামাগুলোকে সংস্কার করতে হবে। নারী আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে হলে বিশ্বব্যাপী পরিবর্তনের ক্ষেত্রগুলো সম্পর্কে জানতে হবে। গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে আরো সংবেদনশীল হতে হবে। সর্বোপরি আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যেতে হবে।
মহিলা পরিষদের উদ্যোগে ‘নারীর প্রতি সহিংসতা: নারী সাংবাদিকদের ভাবনা’ বিষয়ে মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। মত বিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে ডা. ফওজিয়া মোসলেম এসব কথা বলেন। মঙ্গলবার মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সুফিয়া কামাল ভবন মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
মত বিনিময় সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন মালেকা বানু, সীমা মোসলেম। নারীর প্রতি সহিংসতার চিত্র: নারী সাংবাদিকদের ভাবনা-বিষয়ে প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন মুনিমা সুলতানা এবং বাংলাদেশের উন্নয়নে নারী ও কন্যার প্রতি সহিংসতা বিষয়ে সংক্ষিপ্তাকারে গবেষণা ফলাফল উপস্থাপন করেন আফরুজা আরমান। সঞ্চালনায় ছিলেন মাহফুজা জেসমিন।
স্বাগত বক্তব্যে সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেন, ‘বর্তমানে নারী ও কন্যার প্রতি সহিংসতার ঘটনা ক্রমাগতভাবে বাড়ছে। ক্ষেত্র বিশেষে সহিংসতার চিত্রও বদলেছে। নারীর প্রতি সমাজের বিদ্বেষকে বর্তমানে নানাভাবে উসকে দেওয়া হচ্ছে। নারীর মানবাধিকার রক্ষায় আইন থাকলেও আমরা জানি বাস্তবে তার প্রয়োগ কতটুকু। এই পরিস্থিতিতে নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে গণমাধ্যমকে সঙ্গে নিয়ে নারী আন্দোলন আরো বেশি সংগঠিত করতে।
মত বিনিময় সভায় সীমা মোসলেম বলেন, ‘গণমাধ্যমে প্রকাশ ও প্রচারের ফলে প্রতিনিয়ত সমাজে নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি বুঝতে পারা যায়। নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে গণমাধ্যমের গুরুত্ব অনেক বেশি। নারীর প্রতি সহিংসতার ঘটনার প্রকৃত তথ্য গণমাধ্যমে উপস্থাপন করা প্রয়োজন।
নারীর প্রতি সহিংসতার চিত্র: নারী সাংবাদিকদের ভাবনা বিষয়ে প্রেজেন্টশন উপস্থাপনে মুনিমা সুলতানা বলেন, সমাজ উন্নয়নে নারীর অবদান থাকলেও ক্রমাগত সহিংসতা নারীর অর্জনকে পিছিয়ে দিচ্ছে। পত্রিকায় প্রকাশিত খবরের ভিত্তিতে দেখা যায়, গত ছয় মাসে প্রায় ১ হাজার ৫৫৫ জন নারী ও কন্যা সহিংসতার শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে মার্চ মাসে সহিংসতার ঘটনা বেশি ঘটেছে, তবে পরবর্তীতে সহিংসতার ঘটনা কমে গেলেও তা নারীর জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে নি।
মত বিনিময় সভায় আফরুজা আরমান বলেন, ‘গত এক বছরে নারী ও কন্যার প্রতি সহিংসতার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, প্রতিটি সহিংসতার ঘটনায় কন্যাদের আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা বেশি। বাল্যবিয়ে, যৌন নির্যাতন, ধর্ষণ ও দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় কন্যাদের প্রতি সহিংসতার হার বেশী, যাদের বয়স ২-১৮ বছরের মধ্যে।
আলোচনা শেষে মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন সেলিনা আক্তার, দ্রোহী তারা, নাসরিন গীতি, রাফিয়া চৌধুরী, নাদিরা কিরণ ও শাহনাজ মুন্নী, সেবিকা দেবনাথ, উম্মুল ওয়ারা সুইটি, রীতা ভৌমিক, জাহিদা পারভেজ, শাহনাজ পারভীন এলিস ও জান্নাতুল রুহি।