বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করলে এবং সেই প্রতিশ্রুতি পরবর্তীতে ভঙ্গ করলে— বিশেষত যদি সেই প্রতিশ্রুতিটি প্রতারণামূলক হয় তাহলে তা ধর্ষণের সংজ্ঞার মধ্যে পড়ে যেতে পারে। এই বিষয়টি বাংলাদেশ পেনাল কোড, ১৮৬০-এর ৩৭৫ ধারার আলোকে বিচার করা হয়।
ধারা ৩৭৫ অনুযায়ী, যদি কোনো নারী তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে বা সম্মতি ছাড়া, বা ভ্রান্ত বা প্রতারণামূলক সম্মতিতে শারীরিক সম্পর্ক করে থাকেন, তবে তা ‘ধর্ষণ’ হিসেবে বিবেচিত হবে। আইন অনুযায়ী, নারীর বয়স ১৬ বছরের নিচে হলে তার সম্মতির বিষয়টিও ধর্তব্য হয় না — অর্থাৎ সম্মতি থাকলেও সেটি বৈধ নয়।
আইনের দৃষ্টিতে ‘সম্মতি’ বলতে বোঝানো হয় স্বতঃস্ফূর্ত এবং ইচ্ছাপ্রসূত সম্মতি, যা প্রতারণা, চাপ, ভয় বা ভুল তথ্যের ভিত্তিতে নয়। যদি কোনো নারী বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে সম্মতি দিয়ে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন এবং পরে প্রমাণিত হয় যে সেই প্রতিশ্রুতি ছিল মিথ্যা বা প্রতারণামূলক — অর্থাৎ পুরুষটি জানতেন যে তিনি বিয়ে করবেন না, তাহলে সেই সম্মতিকে আইন ‘ভ্রান্ত সম্মতি’ (consent obtained under misconception of fact) হিসেবে গণ্য করা হয়।
বাংলাদেশের বিভিন্ন উচ্চ আদালতের রায়ে বারবার বলা হয়েছে, যদি কোনো পুরুষ মিথ্যা বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নারীকে শারীরিক সম্পর্কের জন্য রাজি করান এবং সেই প্রতিশ্রুতি তিনি রাখেন না, তাহলে তা ধর্ষণের পর্যায়ে পড়ে যেতে পারে।
ধর্ষণের শাস্তি হিসেবে বাংলাদেশে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে। এছাড়া আর্থিক জরিমানাও হতে পারে। যদি প্রমাণ হয় যে ধর্ষণটি বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে সংঘটিত হয়েছে, তবে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ একটি স্পর্শকাতর এবং জটিল বিষয়। এখানে নারীর সম্মতি ছিল কি না, সম্মতিটি প্রতারণামূলক ছিল কি না, সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবতা কতটুকু ইত্যাদি বিষয় বিচার করতে হয়। আইন নারীর সম্মান ও শরীরের নিরাপত্তার স্বার্থে এই বিষয়গুলোকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে। তাই যদি কেউ বিয়ের মিথ্যা আশ্বাসে প্রতারিত হন, তাহলে আইনি সহায়তা নেওয়া অত্যন্ত প্রয়োজনীয় এবং আইনত ন্যায্য।
লেখক: অ্যাডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট