নারী ও কন্যা নির্যাতন চিত্র–২০২৪

ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির কন্যারা বেশি ধর্ষণের শিকার

নারী ও কন্যার প্রতি সহিংসতার ব্যাপ্তি বেড়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি কারণে উপজেলা, তৃণমূল পর্যায়ে নারী প্রতি সহিংসতার ঘটনা বেশি ঘটছে। ‘বাংলাদেশে নারী ও কন্যা নির্যাতন চিত্র–২০২৪’ সমীক্ষার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির কন্যারা বেশি ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। অপরাধী ও ভুক্তভোগী উভয়ই তরুণ। এই বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক যে, অল্প বয়সের তরুণরা যৌন সহিংসতার মত ঘটনায় জড়িয়ে পড়ছে। যে তরুণ ধর্ষণের ঘটনায় একবার জড়িয়ে পড়ে, সে বার বার একই ঘটনায় লিপ্ত হচ্ছে। বর্তমানে নারীবিদ্বেষী  যে  আবহ  তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে, তা নারীর প্রতি সহিংসতাকে আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে। পরিস্থিতি উত্তরণে নারীবিদ্বেষী সংস্কৃতির পরিবর্তে নারীবান্ধব সংস্কৃতি গড়ে তুলতে গণমাধ্যমকে জোরদার ভূমিকা পালন করতে হবে।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের উদ্যোগে আজ ২৬ আগস্ট ‘বাংলাদেশে নারী ও কন্যা নির্যাতন চিত্র–২০২৪ সমীক্ষা প্রতিবেদনের তথ্য উপস্থাপন’ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে মডারেটরের বক্তব্যে মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম এসব কথা বলেন। সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের আনোয়ারা বেগম মুনিরা খান মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সমীক্ষা প্রতিবেদন উপস্থাপনকালে আরমান আফরুজা আরমান বলেন, বাংলাদেশে নারী ও কন্যা নির্যাতন চিত্র-২০২৪ শিরোনামে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনটি নারীর প্রতি সহিংসতার প্রকৃতি, বর্তমান অবস্থা ও প্রভাবসমূহের একটি সুস্পষ্ট চিত্র। ধর্ষণ, দলবদ্ধ ধর্ষণ, ধর্ষণের চেষ্টা, উত্ত্যক্তকরণ ও যৌন হয়রানি, যৌতুক, বাল্যবিয়ে, গৃহকর্মী নির্যাতন ও সাইবার অপরাধ এই আট ধরণের নির্যাতনের মাত্রা পত্রিকায় প্রকাশিত সহিংসতার খবরের তুলনায় বেশি হওয়ায় সমীক্ষা প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

আফরুজা আরমান সমীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ শেষে ইতিবাচক দিক তুলে ধরে বলেন, ধর্ষণের ঘটনার পর ঘটনা চাপা দেওয়ার চেষ্টা, মামলা তুলে নিতে চাপ সৃষ্টি করা এবং সালিশের মাধ্যমে অভিযুক্তের শাস্তি নিশ্চিতের পরিবর্তে আপোষের চেষ্টা করা হলেও ভুক্তভোগীর মামলা করার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। সামাজিকভাবে প্রতিরোধের তৎপরতা ও উদ্যোগ বাড়ছে।

সমীক্ষা তথ্য উপস্থাপন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংগঠনের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ বলেন, সহিংসতার ঘটনায় নানাভাবে বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবান্বিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিচারের দীর্ঘসূত্রিতারোধে জবাবদিহিতা নিশ্চিতের উপর জোর দিতে হবে। শিশুরা যে ঘরে–বাইরে অনিরাপদ, তা সমীক্ষায় প্রকাশিত হয়েছে। কীভাবে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় সে বিষয়ে আমাদের এখন মনোযোগী হতে হবে। সমীক্ষার তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, তৃণমূলে সংঘটিত সহিংসতার ঘটনা গণমাধ্যমে বেশি প্রকাশিত হয়েছে। সহিংসতার ঘটনায় মামলা পরিচালনায় দেখা গেছে, ৯৮ শতাংশ মামলায় সফলতা এসেছে, তবে এখানে দীর্ঘসূত্রিতা আছে। একেকটি মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হতে ২৫-২৬ বছর সময় লেগেছে।

সমীক্ষা প্রতিবেদনের তথ্য উপস্থাপন করেন মহিলা পরিষদের সিনিয়র প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কর্মকর্তা আফরুজা আরমান। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বক্তব্য রাখেন মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সীমা মোসলেম, লিগ্যালএইড সম্পাদক রেখা সাহা এবং লিগ্যাল এডভোকেসি ও লবি পরিচালক অ্যাডভোকেট দীপ্তি শিকদার।