কমলাপুর রেলস্টেশন ও কক্সবাজারে নারী হত্যা ঘটনায় মহিলা পরিষদের ক্ষোভ

রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনে এক নারীকে কুপিয়ে হত্যা এবং কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার বারবাকিয়া ইউনিয়নে দুর্বৃত্তদের দ্বারা বিধবা নারীকে হত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের। ২৭ আগস্ট মহিলা পরিষদের পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ ক্ষোভের কথা জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়,গত ২৭ আগস্ট বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায়, রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনে এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। নিহত নারী ও অভিযুক্ত সুজন দুজনই একটি সুপারশপে কাজ করতেন। এ সুবাদে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ২৫ আগস্ট তারা দুজন রেলস্টেশনে ঘুরতে আসেন। তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হওয়ার এক পর্যায়ে সুজন তার কাছে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে ওই নারীকে কুপিয়ে হত্যা করেন।

এ ছাড়া কক্সবাজার জেলার পেকুয়া উপজেলার বারবাকিয়া ইউনিয়নের ভারুয়াখালী গ্রামে দুর্বৃত্তদের দ্বারা এক বিধবা নারীকে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। নিহত নারীর স্বামী মারা যাওয়ায়  তিনি একা একটি কুঁড়েঘরে বসবাস করতেন। ২৫ আগস্ট মাগরিবের সময় এক মহিলা তার বাড়িতে গেলে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ দেখতে পান। পরে অন্যদের সহায়তায় দরজা খুললে ভেতরে তাঁর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। জানা যায়, এক মাস আগে তার বাড়িতে চুরি হয়েছিল। এ নিয়ে সালিশ করা হয়। আবারো তার বাড়িতে চুরি করতে বাধা দেওয়ায় দুর্বৃত্তদের দ্বারা খুন হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নারী ও কন্যারা নির্মম হত্যাকাণ্ড ও বিভিন্ন ধরণের নৃশংস সহিংসতার শিকার হচ্ছে। নারীরা তার সহকর্মীদের দ্বারা এবং নিজ বাসস্থানেই দুর্বৃত্তদের দ্বারা হত্যাকাণ্ডের শিকার হচ্ছে, যা তাদের কর্মক্ষেত্র, স্বাভাবিক জীবন-যাপন ও স্বাধীন চলাচলের ক্ষেত্রে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সংগঠিত ঘটনায় বর্তমানে নারীদের নিরাপত্তা এখন হুমকির সম্মুখীন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ঘটনাদ্বয়ের সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারসহ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ শাস্তির লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নিকট অনুরোধ জানাচ্ছে। সেই সাথে এ ধরণের ঘটনা প্রতিরোধে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজকে যুক্ত করে সমন্বিত সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহবান জানাচ্ছে।