নারীর আর্থিক ক্ষমতায়নের চেয়ে রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন বেশি জরুরি

কর্মক্ষেত্রে নীতিনির্ধারণ পর্যায়ে নারীর অংশগ্রহণ কম। সংকট মোকাবিলায় নারীর আর্থিক ক্ষমতায়নের চেয়ে রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন বেশি জরুরি বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। বুধবার অর্থনীতি সমিতির এক সেমিনারে তারা এসব কথা জানান। 

বিশ্লেষকরা বলেন, জিডিপিতে কর্মমুখী নারীরা বড় ধরণের অবদান রাখলেও গৃহিণীদের কাজের মূল্যায়ন নেই। ঘরে ও বাইরে একই সাথে সব কাজ সামলালেও আর্থিক ক্ষমতায়নের দিক থেকে নারীরা এখনো অনেকটাই পিছিয়ে। নিজেদের মজুরির প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশই তারা দিয়ে দিচ্ছেন স্বামী, সন্তান বা ভাইকে।

বিশ্লেষকদের মতে, নীতি নির্ধারণের জায়গায়, নারীদের অবদান পুরুষদের তুলনায় অনেক কম। ঘরের কাজের কোনো মূল্যায়ন বা স্বীকৃতি নেই জিডিপিতে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা বলেন, 'তিনি যে কাজটা করছেন এই কাজটা স্বীকৃত নয়। কাজ হিসেবে স্বীকৃত নয়, কিন্তু এই কাজটার জন্য আমরা যদি এই কাজটা অন্য কাউকে দিয়ে করাতে যেতাম আমাদেরকে কিন্তু মজুরি দিতে হত। তাঁর অর্থ হচ্ছে, এটা এক ধরণের এক্সপেনডিচার সেভিংস।' 

নারীর কর্মসংস্থান, মজুরি বৈষম্য, শিক্ষাভিত্তিক দক্ষতা ও নীতিগত দুর্বলতার নানা দিকও উঠে আসে আলোচনায়। সংশ্লিষ্টরা জানান, রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণই তাদেরকে আর্থিকভাবে শক্তিশালী করে তুলতে পারে।

সিপিডি'র নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, 'যতই আমরা অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন করি আসলে দিনের শেষে সেটা যদি রাজনীতিকভাবে গ্রহণ না করা হয় এবং নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন না হয় তাহলে কিন্তু সিদ্ধান্ত গ্রহণ পর্যায়ে নারীদের জন্য খুব বেশি কিছু করা সম্ভব হয় না।'

সেমিনারে বক্তারা বলেন, সব ধরনের উৎপাদনকেই পণ্যের উৎপাদন হিসেবে ধরা হয়, তবে কোনো পুঁজিবাদেই সন্তান লালন পালনের কথা নেই।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ্ বলেন, 'সন্তানের জন্ম থেকে শুরু করে সন্তানের বেড়ে উঠা, সব কিছু হয় পরিবারের মধ্যে এবং এই কমোডিটিটির উৎপাদনের পরিপালনের যে দায়িত্ব- সৃষ্টি করার যে দায়িত্ব, সে দায়িত্ব কিন্তু কোনো পুঁজিপতি নেয় না।' 

নারীবান্ধব শ্রমনীতি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং দক্ষতা বৃদ্ধির উপর কাজ করা গেলে তাদের আর্থিক ক্ষমতায়ন আরও শক্তিশালী হবে। এছাড়াও নারীর শ্রমবাজারে অংশগ্রহণ বাড়াতে নীতিগত সংস্কার বাস্তবায়ন জরুরি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।