যে বাজারে বিক্রেতা কেবল নারীরাই

একটি বাজারে শুধুই নারী বিক্রেতা। প্রতিদিন দুই থেকে তিনশো নারী তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য বিক্রি করেন সেখানে। এই বাজার খাগড়াছড়ির দীঘিনালায়। জুমের আদা-হলুদের সঙ্গে পাহাড়ি ঝিরির মাছও মেলে সেখানে। অনেকে আবার পাহাড়ি খাবারের পসরা সাজিয়ে বসেন।

খাগড়াছড়ির দীঘিনালার লারমা স্কয়ার। ভোরের পরই জমে ওঠে এখানকার বাজার। তবে এটি অন্য বাজারের চেয়ে একেবারেই আলাদা। বিক্রেতাদের সবাই নারী। জুম আর সমতলে উৎপাদন করা কৃষিপণ্য বিক্রি হয় এখানে।

ভুট্টা, হলুদ, আদা আর নানান শাক-সবজি এই বাজারের মূল পণ্য। পাশাপাশি পাহাড়ি ঝিরি আর নদীর মাছও মেলে। কাটতি আছে কাঁকড়ারও। মধ্যস্বত্বভোগী না থাকায় দামও হাতের নাগালেই থাকে। তবে তাতে লাভ খুব একটা হয় না বলেই জানালেন বাজারের নারী বিক্রেতারা। 

লারমা স্কয়ারের এক নারী বিক্রেতা জানান, 'লাভ তো (তেমন হয় না) কোনোমতে সংসার চলে। এত লাভ নাই। এক কেজি আলুর থেকে (বিক্রি করে) ৪ টাকা, ৫ টাকা (লাভ থাকে)। 

আরেক নারী বিক্রেতা বলেন, মাঝে মাঝে ৫ টাকা, ৬ টাকা লাভ হয়। মাঝে মধ্যে আবার লস পড়ে। মাঝে মধ্যে সমান সমান থাকে।

একটি স্থায়ী বাজারের দাবি জানিয়ে আরেক বিক্রেতা বলেন, যদি একটা স্থায়ী বাজার হতো, তাহলে ভালো হতো। আমরা নিরাপদে বসে তরিতরকারি বিক্রি করতে পারতাম।

ফরমালিন মুক্ত আর তাজা  পণ্য পাওয়া যায় বিধায় এই বাজারে ক্রেতাদের ভিড় লেগে থাকে সারা বছর।

এক ক্রেতা জানালেন, আমি অনেকগুলো পণ্য নিয়েছি, জুমের যেগুলো অর্গানিক। উনাদের নিজস্ব চাষ করা ফলমূল, শাক-সবজি। এখানে সারাদিন থেকে দেখলাম যে, সকাল-বিকাল দুই সময়ই এখানে বাজার বসে।

স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ঢাকা থেকে বা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ এখানে আসে। যাতায়াতের পথে তারা এখানে বাজার করে, কারণ এখানে তৃপ্তি মেটানোর জিনিসপত্র পাওয়া যায়। 

প্রতিদিন এখানে অন্তত তিন লাখ টাকার পণ্য কেনাবেচা হয়। নারীদের এই বাজার সংরক্ষণের জন্য সহজ শর্তে ঋণ প্রদানের দাবি করছেন ব্যবসায়ী নেতাদের।

এ প্রসঙ্গে দীঘিনালার লারমা স্কয়ার বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি নিপন চাকমা বলেন, সরকারিভাবে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে যদি এদেরকে ঋণের ব্যবস্থা করা যেত, তাহলে এরা পুঁজি খাঁটিয়ে কিছুটা লাভবান হতো।

দীঘিনালার এই বাজারে প্রতিদিন দুই থেকে তিনশো নারী বিভিন্ন কৃষি পণ্য বিক্রি করেন।