বিশ্বে বাড়ছে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা। আর কমছে ধনী দেশগুলোর সাহায্যের পরিমাণ। উদ্বেগজনক এই তথ্য দিয়েছে জাতিসংঘ। প্রতিবেদন বলছে, অর্থ ঘাটতিতে আগামী বছর বিশ্বের মোট ক্ষুধার্থ জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশই অভুক্ত থেকে যাবে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সংঘাতের জেরে প্রতিনিয়ত বাড়ছে মানবিক সংকট। প্রাণহানি, বাস্তুচ্যুতির পাশাপাশি বিশ্বে রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা। জাতিসংঘের হিসেবে আগামী বছর ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াতে পারে ৩০ কোটি ৭০ লাখ।
বিপুল পরিমাণের এই ক্ষুধার্ত মানুষের জন্য চলতি বছর ৪ হাজার ৯৬০ কোটি ডলার সহায়তা সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল জাতিসংঘের। কিন্তু শেষ পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রার ৪৬ শতাংশ অর্থ তুলতে পেরেছে তারা। এর ফলে আগামী বছর ৩০ কোটি ৭০ লাখ অভুক্ত মানুষের মধ্যে ১১ কোটি ৭০ লাখ মানুষের কাছে পৌঁছানো যাবে না খাবার।
এ নিয়ে পরপর দুই বছর প্রয়োজনীয় অর্থের অর্ধেকও জোগাড় করতে পারল না জাতিসংঘ। এ কারণে অমানবিক হলেও ত্রাণ কমানোর মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে সংস্থাটিকে। অন্যবছর সিরিয়ার ৬০ লাখ মানুষ ত্রাণ সহায়তা পেলেও তহবিল সঙ্কটে সেই সংখ্যা ১০ লাখে নামিয়ে আনতে বাধ্য হচ্ছে জাতিসংঘ।
গত কয়েক বছর ধরে তহবিল সংকটে ভুগছে জাতিসংঘ। বিশেষ করে ধনী দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক চাপের কারণে কমছে তহবিল। জাতিসংঘের অন্যতম দাতা দেশ জার্মানি। তবে গত দুই বছর ধরে কমেছে তাদের অর্থ সহায়তা। আগামী বছর সেই পরিমাণ আরও কমবে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।
আগামী ২০ জানুয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি আর্থিক অনুদান নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নেবেন, সেদিকেও তাকিয়ে মানবিক সংগঠনগুলো।
আমেরিকা, জার্মানি ও ইউরোপীয় কমিশন মিলে জাতিসংঘের তহবিলে ৫৮ শতাংশ অর্থসহায়তা দেয়। আর চীন, রাশিয়া ও ভারত মিলে দেয় মাত্র ১ শতাংশ অর্থ।