আবাসন ব্যয় বাড়ায় বিশ্বজুড়ে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে বাড়ি ভাড়া। এই বৈশ্বিক সংকট শুধু অর্থনৈতিক চাপই বাড়াচ্ছে না, নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে সমাজ ও দৈনন্দিন জীবনে। জাতিসংঘের প্রতিবেদন ওয়ার্ল্ড সিটিজ রিপোর্টে উঠে এসেছে এসব তথ্য।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, গত এক যুগে বিশ্বের প্রতিটি পরিবারে মাসিক আয় ও আবাসন খরচের মধ্যে পার্থক্য বেড়েছে ২০ শতাংশেরও বেশি। আয়-ব্যয়ের অসামঞ্জস্যতায় বাড়ি কেনা তো দূরের কথা, অনেক পরিবারের জন্য বাসা ভাড়া দেওয়াই কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।
জাতিসংঘের তথ্যমতে, বিশ্বের ৪৪ শতাংশ পরিবার তাদের মাসিক আয়ের ৩০ শতাংশের বেশি ব্যয় করছে কেবল বাড়ি ভাড়ার পেছনে। আশ্রয়হীন হওয়ার আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে ১০৮টি দেশের এক-চতুর্থাংশ মানুষ।
পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, পশ্চিম এশিয়া এবং উত্তর আফ্রিকার ভাড়াটিয়াদের মধ্যে এই নিরাপত্তাহীনতা সবচেয়ে বেশি। ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডেও তীব্র অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে পরিবারগুলো।
উন্নত দেশগুলোতেও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে আবাসন ঘাটতি। ইউরো-আটলান্টিক অঞ্চলে ২০১০ সালের তুলনায় ২০২৩ সালে আবাসন ঘাটতি প্রায় আড়াই গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
আবাসন সংকট প্রভাব ফেলছে অস্থায়ী বসতির ওপর। ২০১০ সালে বিশ্বজুড়ে বস্তিবাসীর সংখ্যা ছিল ৯৮ কোটি। যা ২০২৩ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১৬ কোটি ৫০ লাখে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই আবাসন সংকটের প্রভাব পড়ছে সামাজিক জীবনে। বিয়ের জন্য আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় তরুণদের একাকীত্ব বাড়ছে। বাসস্থানের অনিশ্চয়তা তৈরি করছে আত্মহত্যার প্রবণতা। আশঙ্কাজনক হারে কমছে শিশুর জন্মহার।
জাতিসংঘের মতে, বিশ্বের শ্রমবাজার, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও ডিজিটাল প্রযুক্তিসহ বিপুল সম্পদ ((মুষ্টিমেয়)) অভিজাত শ্রেণির হাতে ((কুক্ষিগত)) থাকায় এই অর্থনৈতিক বৈষম্য দিন দিন আরও প্রকট হচ্ছে।



