জলবায়ু পরিবর্তনের চরম খেসারত দিচ্ছে বিশ্ববাসী। অস্বাভাবিক তাপমাত্রায় বাড়ছে ভোগান্তি। প্রচণ্ড গরমের কারণে শ্রমজীবী মানুষের মৃত্যু ঝুঁকি বাড়ছে বলে সতর্ক করেছেন বিশ্লেষকরা। কাতারের রাজধানী দোহায় অনুষ্ঠিত এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে এমন সতর্কবার্তা জানানো হয়।
দিনে দিনে বেড়েই চলেছে জলবায়ু পরিবর্তনের ব্যাপকতা। এর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে দেখা দিয়েছে আবহাওয়ার অস্বাভাবিক রূপ। কোথাও ভয়াবহ হারে গলছে হিমবাহ। কোথাও আবার স্বাধারণ হিসেব নিকেশ বদলে প্রকোট হচ্ছে খরা, দাবানল, বন্যার মতো দুর্যোগ।
বসন্তকালেও তাপমাত্রা ছাড়াচ্ছে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এভাবে তাপমাত্রা বৃদ্ধি ডেকে আনছে দাবদাহ। প্রচণ্ড গরমে কাজ করার কারণে বিশ্বজুড়ে শ্রমিকদের মৃত্যু ও শারীরিকভাবে অক্ষম হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। সম্প্রতি এ তথ্য উঠে এসেছে কাতারের রাজধানী দোহায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে।
জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি শ্রমজীবী মানুষের ওপর কী প্রভাব ফেলছে, তা ছিল সম্মেলনের মূল আলোচ্য। গবেষকেরা বলছেন, প্রচণ্ড গরমে শ্রমজীবী মানুষের হিট স্ট্রোক, কিডনির রোগ, হৃদরোগ, ফুসফুসের রোগ ও ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে।
দীর্ঘস্থায়ী কিডনি জটিলকায় গত এক দশকে, মধ্য আমেরিকায় ২০ হাজারের বেশি চিনিকল শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে, একই রোগে শ্রীলঙ্কায় মারা গেছেন প্রায় ২৫ হাজার শ্রমিক। শ্রমিকদের মৃত্যু ঠেকাতে দেশগুলো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলেও অভিযোগ করা হয় সম্মেলনে।
এরআগে, নানা গবেষণায় উষ্ণ আবহাওয়ার কারণে কর্মঘণ্টার ক্ষতির চিত্র তুলে ধরেছেন গবেষকরা। তাদের তথ্য মতে, বেশি গরমের কারণে বিশ্বে প্রতিবছর গড়ে ২২ হাজার ৮০০ কোটি শ্রমঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। এর আর্থিক মূল্য ২৮ থেকে ৩১ হাজার ১০০ কোটি মার্কিন ডলার।
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বৃদ্ধির কারণ হিসেবে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনকে দায়ী করেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের শঙ্কা, বর্তমান বিশ্বে যে হারে কার্বন নিঃসরণ ঘটছে, তাতে ২০৩০ সাল নাগাদ ছাড়িয়ে যাবে বিশ্বের কার্বন নিঃসরণের নির্ধানিত সীমা। এতে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বেড়ে ভয়াবহ নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে পরিবেশের ভারসাম্যের ওপর।