বাংলাদেশের একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা নিয়ে বিজেপি সরকারের অবস্থানের কথা জানিয়ে তা নিয়ে সমালোচনা করেছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার কলকাতার ধর্মতলায় একটি সভামঞ্চ থেকে মমতা এ নিয়ে কথা বলেন বলে বিবিসি বাংলা জানিয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে একটা বড় খুনিকে এসটিএফ অ্যারেস্ট করেছিল জেনে রাখুন। যা নিয়ে বাংলাদেশে অনেক রেভল্যুশন হয়েছিল।’
মমতা বলেন, ‘অন্য দেশের কথা আমি বলছি না, আমার সেই অধিকার নেই, কিন্তু আমার মুখ্য বক্তব্য হলো, তারা মেঘালয় দিয়ে বাংলায় চলে আসে। তখন আমাদের এসটিএফ তাদের ধরে।’
চলতি বছরেরই মার্চ মাসে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স বাংলাদেশে ইনকিলাব মঞ্চের ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে দুই মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। তাদের নাম ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল এবং আলমগীর হোসেন।
এই দুই অভিযুক্ত মেঘালয় হয়ে পশ্চিমবঙ্গে ঢুকেছিল বলে জানিয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ। এর পরে অভিযুক্ত ফিলিপ সাংমা নামে একজনকে নদিয়ার শান্তিপুরের কাছ থেকে গ্রেপ্তার করে এসটিএফ।
এর আগে ফয়সাল করিম মাসুদকে ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত বলে ঘোষণা দিয়েছিল ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।
তবে এই ঘটনটির দিকেই তিনি নির্দেশ করছেন কিনা, তা স্পষ্ট জানাননি সাবেক মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘তার পরে হোম মিনিস্টার নিজে আমাকে ফোন করে বলেন... আপনি বেঙ্গল পুলিশকে বলে দিন এই কথা যেন বাইরে না যায়। এটা দেশের স্বার্থে।’
মমতা প্রশ্ন তোলেন, ‘কাকে দিয়ে খুন করিয়েছিলেন? কার কার নাম বেরিয়েছিল? আজ গভর্নমেন্ট চেঞ্জ হলেও আমি তো সবটাই জানি। আমার হৃদয়টাই একটা কথা ভাণ্ডার, তথ্য ভাণ্ডার, সত্য ভাণ্ডার।’
মমতা অভিযোগ করেন, দিল্লি থেকে কলকাঠি নেড়ে তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙ্গে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
মঙ্গলবারের এই জনসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের অনেক বিধায়ককে দেখা যায়নি। ওই মঞ্চ থেকে মমতা ভোটপরবর্তী সহিংসতা, বুলডোজার দিয়ে ভাঙচুর, হকার উচ্ছেদ-সহ একাধিক অভিযোগ তুলেছেন বর্তমান শাসকদল বিজেপির বিরুদ্ধে।
তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের ভয় দেখানো হচ্ছে বলেও তার অভিযোগ। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের সাংসদ, বিধায়ক, কাউন্সিলরদের ভয় দেখানো হচ্ছে। ভয় পাবেন না। আমাকে আটকাতে পারবেন না। সংবিধান রক্ষা করব। বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাব। আমাদের কর্মী-সমর্থকরা আক্রান্ত।’



