আফ্রিকার মুসলিম প্রধান দেশ সোমালিয়াতে প্রথমবারের মতো ট্রাফিক পুলিশ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে নারীদের। রাজধানী মোগাদিসুর সড়কগুলোয় এখন পুরুষদের পাশাপাশি নারী ট্রাফিক পুলিশদেরও টহল দিতে দেখা যায়। শহরটিতে সশস্ত্র গোষ্ঠী আল-শাবাবের সাম্প্রতিক হামলার পর নিরাপত্তা জোরদার করেছে কর্তৃপক্ষ। তারই অংশ নিসেবে মোতায়েন করা হয়েছে নারী কর্মীদের।
প্রতিদিন সকালে সন্তানদের জন্য নাস্তা তৈরির পর, ট্রাফিক পুলিশের কাজে যোগ দেন মোগাদিসুর বাসিন্দা সামিরা আবদুল্লাহ। দিনভর সড়কের যানজট নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন তিনি। সড়ককে সুশৃঙ্খলভাবে নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি পথচারীদের সুরক্ষায় তৎপর থাকেন সামিরার মতো নারী কর্মীরা।
দীর্ঘ দিনের প্রথা ভেঙে এবারই প্রথম ট্রাফিক পুলিশের মত পেশায় নারীদের নিয়োগ দিয়েছে সোমালিয়া। পুরুষ শাসিত সমাজে এই অংশগ্রহণকে বড় অর্জন বলে মনে করেন সামিরা।
তিনি বলেন, ‘সাধারণ মানুষ যখন দেখে কোন নারী পুলিশ যানযট নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে, তখন গাড়ি থেকে নেমে এসে তারা আমাকে অভিনন্দন জানায়। এটি আমাকে উৎসাহিত করে।’
এদিকে, নারী ট্রাফিক পুলিশদের কাজে সন্তুষ্ট যানবাহন চালক ও পথচারীরাও। যাতায়াতে ভোগান্তি দূর হয়েছে বলে জানায় তারা।
পথচারীরা বলছেন, পুরুষদের তুলনায় নারী ট্রাফিক পুলিশ বেশি ভালো হয়। পুরুষ পুলিশগুলো আমাদের লাইসেন্স আটকে রেখে ঘুষ চাইতো। সেই অভ্যাস নারী পুলিশদের নেই।
মুসলিম প্রধান দেশটিতে আগে নারীদের ট্রাফিক পুলিশের পেশায় নিয়োগ দেওয়া হতো না। তারা শুধু দাপ্তরিক কাজেই নিয়োগ পেতেন। তবে সরকারের নতুন নীতিতে বদলেছে চিত্র। আগ্রহ বাড়ছে অন্য নারীদের মাঝেও।