সুদানে গণহত্যার প্রমাণ মুছে ফেলতে মরদেহ পোড়াচ্ছে আরএসএফ 

সুদানের পশ্চিম দারফুরের আল–ফাশির শহর দখলের পর থেকে ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে দেশটির আধাসামরিক বাহিনী আরএসএফ। প্রকাশ্যে রাস্তায় মানুষকে গুলি করে হত্যা, ট্রাকচাপা দিয়ে পিষে ফেলার মতো নৃশংসতা চলছে। এরপর শত শত মরদেহ গুম করে, পুড়িয়ে বা গণকবরে চাপা দিয়ে নৃশংসতার প্রমাণ মুছে ফেলার চেষ্টাও চলছে। সুদানের চিকিৎসক সংগঠনগুলোর বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে, শহরের বিভিন্ন স্থানে মরদেহের স্তুপ, গণকবরের চিহ্ন এবং বড় ট্রাকের নড়াচড়া। যা মরদেহ সরানো বা লুটপাটের ইঙ্গিত দেয়। এখনো অসংখ্য মানুষ শহরের ভেতর আটকা পড়ে আছে। সেখানে ধর্ষণ, নির্যাতন ও জাতিগত সহিংসতা চলছে বলে জানা গেছে। 

প্রত্যক্ষদর্শী এবং ত্রাণকর্মীরা রয়টার্সকে জানান, বাড়ি বাড়ি গিয়ে হত্যাযজ্ঞ চালায় আরএসএফ। আর যারা রাস্তায় বের হয়, তাদের লক্ষ্য করে ড্রোন হামলাও চালানো হয়। আল–ফাশির থেকে পালানোর সময় তল্লাশির নামে মারধর এবং নারীদের নির্যাতন করা হয়।  

সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক জানিয়েছে, আরএসএফ এখন শত শত মরদেহ পুড়িয়ে বা গোপনে মাটিচাপা দিচ্ছে, যাতে গণহত্যার প্রমাণ মুছে ফেলা যায়। তবে আরএসএফ সদস্যদের পোস্ট করা নৃশংস হত্যার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা গণহত্যার প্রমাণ হিসেবে সামনে আসছে।

আল–ফাশির দখলের পর থেকেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় আরআসএফ। ফলে ভেতরের পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। হামলার সময় শহরটির প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার মানুষ ছিল। এর মধ্যে মাত্র ৬২ হাজারকে অন্যত্র পাওয়া গেছে। আরএসএফ ও সেনাবাহিনীর মধ্যে সংঘাত থামাতে বারবার যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব এলেও তা ব্যর্থ হয়েছে। আরএসএফ ও সেনাবাহিনীর মধ্যে সংঘাতের অংশ হিসেবে এই সহিংসতা সূত্রপাত হলেও ভুক্তভোগীরা বলছেন, এটি জাতিগত নিধন।