বৈরি আবহাওয়ায় বিপর্যস্ত আফ্রিকা মহাদেশ। আফ্রিকার পূর্বাঞ্চল যখন মারাত্মক খরায় বিপর্যস্ত তখন বন্যায় নাজেহাল দক্ষিণাঞ্চল। এই চরম আবহাওয়া স্থানীয় জনজীবন ও কৃষি অর্থনীতিকে গভীরভাবে প্রভাবিত করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন আফ্রিকা মহাদেশের এই পরিস্থিতি জলবায়ু পরিবর্তন এবং ‘লা নিনা’র প্রভাবের সরাসরি প্রতিফলন।
আফ্রিকার একেক অঞ্চলে এখন একেক ধরনের আবহাওয়া। একদিকে কেনিয়া-সোমালিয়ার সীমান্তবর্তী এলাকা মারাত্মক খরায় পানিশূন্য। অন্যদিকে মোজাম্বিক ব্যাপক বন্যার পানিতে ডুবে আছে ।
খরায় মহাদেশটির বেশ কয়েকটি নদী শুকিয়ে গেছে। ফলে পানির অভাবে মারা গেছে অনেক পশু। স্থানীয়রা জানায়, জুলাই থেকে শুরু হওয়া পশু মৃত্যু এখনও অব্যাহত রয়েছে। খরা ও পানির সংকটে কৃষি ও পশুপালন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সহায়ক সংস্থা প্রতি সপ্তাহে পানি পৌঁছে দিলেও সেই পানি সমানভাবে করা সম্ভব হচ্ছে না।
এদিকে মোজাম্বিকে ভারী বৃষ্টিপাত ও আকস্মিক বন্যায় জনজীবন বিপর্যস্ত। বন্যার কারণে নগর ও গ্রামীণ এলাকায় বসতি, দোকানপাট এবং কৃষিজমি ডুবে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে বন্যাপ্রবণ এলাকা থেকে মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আফ্রিকা মহাদেশের নিচের দিকে অবস্থান করায় মোজাম্বিকে বন্যা পরিস্থিতি আরও গুরুতর হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জাতিসংঘের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে আফ্রিকার গড় তাপমাত্রা শূন্য দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে, যা আফ্রিকায় ক্ষুধা, নিরাপত্তাহীনতা ও মানুষের স্থানান্তর বাড়াচ্ছে। এমন পরিস্থিতে জরুরি ত্রাণ কার্যক্রম চললেও দীর্ঘমেয়াদী সমাধান অপরিহার্য বলছে স্থানীয়রা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং ‘লা নিনা’-এর প্রভাব স্পষ্টতই পরিলক্ষিত হচ্ছে আফ্রিকা মহাদেশে। খরা ও বন্যার যৌথ চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন আফ্রিকায়, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়টি এখনও আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
উল্লেখ্য, সমুদ্রের ও আবহাওয়ার তাপমাত্রার ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার জেরে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়, তা-ই এল নিনো এবং লা নিনা নামে পরিচিত। লা নিনা দিয়ে প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্ব উপকূলেরর শীতল অবস্থা এবং এল নিনো দিয়ে উষ্ণ অবস্থা বোঝানো হয়।