আমেরিকার লস অ্যাঞ্জেলসে ক্যালিফোর্নিয়া ইউনির্ভাসিটিতে (ইউসিএলএ) ফিলিস্তিনিপন্থী বিক্ষোভকারী এবং ইসরায়েলপন্থীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
বর্তমানে ক্যাম্পাসে প্রচুর পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের স্থান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ মেটালের ব্যারিকেড বসিয়ে ঘিরে রেখেছে পুরো এলাকা।
বিবিসি জানায়, নিউইয়র্কের কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশি অভিযানের কয়েকঘন্টা পরই লস অ্যাঞ্জেলেসের এ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দুই বিরোধী পক্ষের মধ্যে এই সংঘর্ষ হল।
এদিকে সংঘর্ষের বিষয়ে ক্যালিফোর্নিয়া ইউনির্ভাসিটির (ইউসিএলএ) ভাইস চ্যাঞ্চেলর মেরি ওসাকো বলেন, ‘রাতে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। তাৎক্ষণিকভাবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা মোতায়েন করা হয়েছে।’
অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ফুটেজে দেখা গেছে, ইসরায়েলকে সমর্থনকারী মুখোশ পরা বিক্ষোভকারীরা ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভকারীদেরকে লাঠিপেটা করছে এবং তাদের শিবির ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
লস অ্যাঞ্জেলেসের পুলিশ বিভাগ এক্সে বলেছে, তারা ক্যাম্পাসে ব্যাপক সহিংস তৎপরতার কারণে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তপক্ষের অনুরোধে কাজ করছে।
ইউসিএলএ- ক্যাম্পাসে সহিংসতার কয়েক ঘন্টা আগে নিউইয়র্কের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিযান চালিয়ে হ্যামিল্টন হল থেকে ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভকারীদের হটিয়ে দেয় পুলিশ। সেইসাথে শিক্ষার্থীদের ওপর টিয়ার গ্যাস ছুঁড়ে গাজায় যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গের চেষ্টা করা হয় এ সময় বহু প্রতিবাদকারীকে গ্রেপ্তার করে তারা।
গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি এবং ইসরায়েলকে মার্কিন সামরিক সহায়তা বন্ধের দাবিতে দুই সপ্তাহ ধরে বিক্ষোভ চলছে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে। যত দিন যাচ্ছে বিক্ষোভ আরও তীব্র হচ্ছে।
কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁবু সরিয়ে নিতে এবং বিক্ষোভ বন্ধ করতে গত সোমবার পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিল। কর্তৃপক্ষের বেঁধে দেওয়া সময় পেরিয়ে গেলে, বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের সাময়িক বহিষ্কার করতে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কিন্তু এপরও বিক্ষোভ থামায়নি শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের হ্যামিলটন হল দখল নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থীরা। ভবনে ‘হিন্দস হল’ লেখা একটি ব্যানার ঝুলিয়ে দেন তারা। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত ছয় বছরের শিশু হিন্দ রজবের সম্মানেই এ কাজ করেছেন তারা।
এরপর স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে শুরু হয় পুলিশি তৎপরতা। হ্যামিল্টন হলে ঢুকে পড়ে পুলিশ। পুলিশকে ঠেকাতে দরজার বাইরে মানবঢাল তৈরি করেন বিক্ষোভকারীদের অনেকে।
১৭ মে পর্যন্ত ক্যাম্পাসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন রাখতে নিউইয়র্ক পুলিশের কাছে আবেদন জানিয়েছে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
এদিকে, ক্যাম্পাসের কার্যক্রম বন্ধ বা ব্যাহত করার প্রচেষ্টা সহ্য করা হবে না বলে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের হুঁশিয়ারি দিয়েছে টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।