আটলান্টায় অনুষ্ঠিত প্রথম প্রেসিডেন্সিয়াল বিতর্কের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে খোদ নিজ দলে ভেতর থেকেই। ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বিতর্কে ধরাশায়ী হওয়ার পর প্রার্থীতা থেকে তাঁর সরে দাঁড়ানোর বিষয়টিও এখন জোর আলোচনায়। তিনি যদি সরে দাঁড়ান তাহলে কে হবেন ডেমোক্র্যাটিদের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী। সেক্ষেত্রে বেশ জোড়ালো ভাবে নাম আসতে শুরু করেছে ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের।
এনিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বুধবার ডেমোক্র্যাট গভর্নরদের সাথে জরুরি বৈঠক করতে যাচ্ছেন। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বিপর্যয়কর বিতর্কের পরে ডেমোক্র্যাট পার্টির স্ট্যান্ডার্ড-ধারক হিসাবে তাঁর ফিটনেস সম্পর্কে তাদের আশ্বস্ত করার জন্য সাংসদের সাথে কথা বলবেন।
স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টায় ডেমোক্র্যাটিক গভর্নরদের সাথে বাইডেনের ওই বৈঠক করার কথা রয়েছে। যারা ওয়াশিংটনে যেতে পারেননি তাদের জন্য বৈঠকটি প্রাথমিকভাবে ভার্চুয়ালে হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বাইডেন ইতিমধ্যে মঙ্গলবার হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভের প্রতিনিধি হাকেম জেফ্রিস এবং বুধবার সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা সেনেটর চক শুমারের সাথে কথা বলেছেন বলে জানিয়েছেন হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা।
এদিকে, ডেমোক্র্যাটিক পার্টির কিংমেকার এবং বাইডেনের ২০২০ সালের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা জিম ক্লাইবার্ন বুধবার সিএনএনকে বলেন, ‘বাইডেন যদি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান তাহলে দলের একজন প্রাথমিক বিকল্প রাখা উচিত।’
সমালোচনার শুরু হওয়ার পর দলের জ্যেষ্ঠ সদস্য হিসেবে বাইডেন সড়ে গেলে তার জায়গায় কে আসবেন তা নিয়ে প্রথম মুখ খুললেন জিম ক্লাইবার্ন। গত মঙ্গলবার তিনি জানান, বাইডেন সড়ে গেলে ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসই হবেন প্রেসিডেন্ট প্রার্থী। যদি সে মনোনীত হয় তাহলে তার জন্য আমাদের একজন যোগ্য এবং শক্তিশালী রানিংমেট দরকার। এই সবই আমাদের একটি সুযোগ, শুধু টিকিটের শীর্ষে কে থাকা ভালো হবে তা পরিমাপ করার নয়, বরং দ্বিতীয় স্থানে কে সেরা হবে সেটাও পাওয়া যাবে।
অবশ্য বাইডেনের প্রার্থিতা নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে সংশয়ের খবর এই প্রথম নয়। এর আগে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত হওয়ার আগে গত জানুয়ারিতে পরিচালিত রয়টার্স–ইপসস পরিচালিত জরিপে দেখা গেছে, অংশগ্রহণকারী ডেমোক্র্যাটদের ৪৯ শতাংশই বাইডেনের নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বিপক্ষে।
মজার বিষয় হচ্ছে, বিভিন্ন জরিপে আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে যথাক্রমে ৭৮ ও ৮১ বছর বয়সী দুই প্রার্থী জো বাইডেন ও ডোনাল্ড ট্রাম্প—কারওই গ্রহণযোগ্যতা ৪০ শতাংশের বেশি আসেনি। ফলে দুই অজনপ্রিয় প্রার্থীর মধ্যে একজনকে বেছে নিতে হবে আমেরিকানদের। এই বাস্তবতা বদলের অংশ হিসেবেই সামনে এসেছে বাইডেনের সরে দাঁড়ানোর প্রসঙ্গ। মুশকিল হচ্ছে বাইডেন ও ট্রাম্প উভয়ের জন্যই আগামী নির্বাচন তাঁদের রাজনৈতিক ভিত টিকিয়ে রাখার লড়াই। এবং কিছুটা ব্যক্তিগত বিষয়ও এর সাথে জড়িয়ে আছে।