মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ নিয়েছে নতুন মোড়। যে দেশকে আমেরিকা বছরের পর বছর নিজের ঘনিষ্ঠ মিত্র বলে মনে করে এসেছে, সেই দেশই নাকি ইরানের কাছে পৌঁছে দিয়েছে মার্কিন ঘাঁটির গোপন তথ্য! ইরানের এমন দাবি এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র আলোড়ন তৈরি করেছে। এই দাবি সত্যি হলে প্রশ্ন উঠবে—আমেরিকার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা কি তার নিজের মিত্ররাই?
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, জর্ডানের সামরিক সূত্র তাদের এমন নির্ভুল তথ্য দিয়েছিল, যার ভিত্তিতেই তারা জর্ডানে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে সক্ষম হয়।
আইআরজিসির ভাষ্য অনুযায়ী, এই তথ্যের সাহায্যে তারা আল-আজরাক এলাকায় মার্কিন বাহিনীর ব্যবহৃত একাধিক হ্যাঙ্গার শনাক্ত করে হামলা চালায়। পাশাপাশি আকাবা বিমানবন্দরে থাকা মার্কিন সি-১৭ পরিবহন বিমান ও পি-৮ নজরদারি বিমানের ওপরও আঘাত হানার দাবি করেছে তারা।
শুধু তা-ই নয়, আইআরজিসি প্রকাশ্যে জর্ডানের যেসব সামরিক সদস্য তাদের সহায়তা করেছেন বলে দাবি করেছে, তাঁদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে।
এই দাবির পরই নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে একটি বড় প্রশ্ন—আমেরিকার ঘাঁটির অবস্থান, বিমান মোতায়েন কিংবা সামরিক তথ্য যদি সত্যিই মিত্র দেশের ভেতর থেকেই বাইরে চলে যায়, তবে ওয়াশিংটনের গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার শক্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র স্বীকার করেছে, জর্ডানে ইরানের হামলায় মার্কিন সেনা হতাহত হয়েছে।
তবে আইআরজিসির দাবি করা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, বিমান ধ্বংস বা বহু সেনা নিহত হওয়ার তথ্য এখন পর্যন্ত নিশ্চিত করেনি ওয়াশিংটন।
এদিকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে উঠে এসেছে, সাম্প্রতিক হামলাগুলোর পর মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যেও উদ্বেগ বেড়েছে। কারণ, তাঁদের আশঙ্কা—ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আগের তুলনায় আরও দ্রুত এবং কার্যকরভাবে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করতে পারছে। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়তেই এর আগে যুক্তরাষ্ট্র কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে কিছু সেনা ও সামরিক সম্পদ জর্ডান এবং ইসরায়েলে সরিয়ে নিয়েছিল। কিন্তু এখন সেই জর্ডানকেই ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক।
যুদ্ধক্ষেত্রে শুধু ক্ষেপণাস্ত্র নয়, তথ্যও অন্যতম শক্তিশালী অস্ত্র। আর সেই তথ্য যদি আসে নিজের মিত্র দেশের ভেতর থেকেই—তবে সেটি যেকোনো দেশের জন্য বড় নিরাপত্তা শঙ্কা। ইরানের এই দাবি কতটা সত্য, তা নিয়ে বিতর্ক চলছেই।
তবে একটি বিষয় পরিষ্কার—মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত এখন আর শুধু আকাশে ক্ষেপণাস্ত্রের যুদ্ধ নয়, বরং বিশ্বাস, গোয়েন্দা তথ্য ও মিত্রতারও কঠিন পরীক্ষা।



