কানাডা–মেক্সিকোকে বিপাকে ফেলতে ট্রাম্পের নতুন শুল্কারোপ

বাণিজ্যনীতি পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে আরও একটি বড় পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল রোববার তিনি বলেছেন, ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম আমদানির ওপর তিনি ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবেন।
 
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, গতকাল রোববার নিউ অরল্যান্সে যাওয়ার পথে উড়োজাহাজেই সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি বলেন, ‘সোমবারই হোয়াইট হাউস এই নতুন শুল্কারোপ ঘোষণা করবে।’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘যেসব দেশ আমাদের ওপর শুল্ক আরোপ করবে আমরাও তাদের ওপর পাল্টা শুল্ক বসাব। খুব সহজভাবে বলতে গেলে, এভাবেই আমরা বাণিজ্যনীতিতে সমতা আনতে চাই।’

যুক্তরাষ্ট্র সরকার ও আমেরিকান আয়রন অ্যান্ড স্টিল ইনস্টিটিউটের তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্র সবচেয়ে বেশি ধাতবপণ্য আমদানি করে থাকে কানাডা থেকে। এর পরেই রয়েছে মেক্সিকো, ব্রাজিল, দক্ষিণ কোরিয়া ও ভিয়েতনাম। গত বছরের প্রথম ১১ মাসে কানাডা থেকে ৭৯ শতাংশ অ্যালুমিনিয়াম আমদানি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে অ্যালুমিনিয়াম ও ইস্পাতের ওপর নতুন করে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করলে সবচেয়ে বিপাকে পড়বে কানাডা ও মেক্সিকো।

কানাডার উদ্ভাবনবিষয়ক মন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া ফিলিপ শ্যাম্পেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, ‘কানাডার ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা, জাহাজ নির্মাণ ও অটোমোবাইল শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। আমরা নিঃসন্দেহে আমাদের শিল্প ও কর্মীদের পাশে থাকব।’

এর আগে কানাডা ও মেক্সিকোর বিভিন্ন পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়ে পরে আবার তা স্থগিত করেন ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্ট মেক্সিকোকে শর্ত দিয়েছিলেন, তাদের সীমান্তে তৎপরতা বৃদ্ধি করতে হবে যেন অবৈধ মাদক যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে না পারে। সেই শর্ত অনুযায়ী সীমান্তে ন্যাশনাল গার্ডের ১০ হাজার সেনাকে তাৎক্ষণিকভাবে মোতায়েন করে মেক্সিকো। এ শর্তে তাদের ওপর আরোপিত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন ট্রাম্প। 

এরপর কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোও ট্রাম্পকে আশ্বস্ত করেন যে, তারা সীমান্তে নতুন প্রযুক্তি এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করবে। পাশাপাশি ফেন্টানাইল চোরাচালান এবং অর্থ পাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য আমেরিকাকে সহায়তা করবে। ট্রুডোর এমন আশ্বাবাণী শোনার পর কানাডার ওপর শুল্ক আরোপ স্থগিতের ঘোষণা দেন ট্রাম্প।

তবে গতকাল আবার তিনি ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিলেন। এতে নতুন করে বিপাকে পড়তে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেশি এই দেশ দুটি।