ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সরাসরি আলোচনা হচ্ছে: ট্রাম্প 

পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ইরানের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরান ওয়াশিংটনের আলোচনার আহ্বান প্রত্যাখ্যান করার মধ্যেই তিনি এমন তথ্য দিলেন।

আল জাজিরার এক প্রতিবেদেন এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন বলছে, স্থানীয় সময় সোমবার ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সঙ্গে নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গ কথা বলেন ট্রাম্প।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, আমরা ইরানের সাথে সরাসরি আলোচনা করছি এবং তারা শুরু করেছে। এটি চলবে। আমাদের একটি খুব বড় বৈঠক আছে এবং আমরা দেখব কী হতে পারে। আমি মনে করি সবাই একমত যে, একটি চুক্তি করাই ভালো হবে।

তিনি এ নিয়ে বিস্তারিত তথ্য দেননি। তবে ট্রাম্প সতর্ক করে দেন,  ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা রোধে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে বড় বিপদে পড়বে দেশটি। তিনি বলেন, তেহরানের  ‘পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে পারবে না।’

চলতি মাসের শুরুতে ট্রাম্প এনবিসি নিউজকে বলেছিলেন, যদি তারা (ইরান) কোনো চুক্তি না করে, তাহলে বোমা হামলা হবে। বোমা হামলা এমন হবে, যা তারা আগে কখনও দেখেনি।

আল জাজিরার জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক বিশ্লেষক মারওয়ান বিশারা বলেন, তেহরানের সাথে ট্রাম্পের সরাসরি আলোচনার ঘোষণা নেতানিয়াহুর ‘পছন্দসই’ হবে না, কারণ ইসরায়েলি নেতা দীর্ঘদিন ধরে কেবল ইরানে বোমা হামলা চালাতে চেয়েছেন।

তিনি বলেন, ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে একটি চুক্তি চেয়েছেন। তবে, নেতানিয়াহু অবশ্যই মনে করেন যে, গত বছর ইরানে ইসরায়েলি বিমান হামলার ফলে ইরানের প্রতিরক্ষা দুর্বল হয়ে পড়েছে। তিনি এটিকে মার্কিন সহায়তায় ইসরায়েলের জন্য ইরানকে শেষ করার একটি দুর্দান্ত সুযোগ হিসেবে দেখছেন।

মারওয়ান বিশারা বলেন, বাস্তবে, ট্রাম্প যখন বিশ্বের অন্যান্য দেশের সাথে বাণিজ্য যুদ্ধের মধ্যে রয়েছেন তখন তিনি ইরানের সাথে যুদ্ধে জড়াতে চান না।

এদিকে সপ্তাহ শেষে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সরাসরি আলোচনার সম্ভাবনাকে ‘অর্থহীন’ বলে বর্ণনা করেছেন।

গত মাসে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে লেখা এক চিঠিতে ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি আশা করেন দেশগুলোর মধ্যে একটি আলোচনা হবে। ইরান এখনও পর্যন্ত ওয়াশিংটনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে তারা বলেছে, তারা পরোক্ষ কূটনীতির জন্য উন্মুক্ত।

এরআগে ২০১৮ সালে প্রথম বার প্রেসিডেন্ট থাকার সময় ট্রাম্প ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেন। ইরান অবশ্য বলে থাকে, তাদের পারমাণবিক কর্মকাণ্ড কেবল বেসামরিক উদ্দেশ্যে।