দীর্ঘ প্রতীক্ষিত প্রাকৃতিক সম্পদ চুক্তি স্বাক্ষর করল আমেরিকা ও ইউক্রেন

কয়েক মাসের টানাপোড়েনের পর ইউক্রেনের সঙ্গে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ নিয়ে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত চুক্তি স্বাক্ষর করল আমেরিকা। রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধের পর ইউক্রেনের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারকে উৎসাহিত করার জন্য দুটি দেশ এর মাধ্যমে একটি পুনর্গঠন বিনিয়োগ তহবিল প্রতিষ্ঠা করতে সম্মত হলো।

আজ বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম বিবিসি। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বলেছেন, বোঝা যাচ্ছে উভয় পক্ষই ইউক্রেনে স্থায়ী শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মার্কিন সামরিক সহায়তা পেতে কিয়েভের জন্য এই চুক্তিটি অপরিহার্য বলে মনে করা হয়।

প্রতিবেদন বলছে, ইউক্রেনে গ্রাফাইট, টাইটানিয়াম এবং লিথিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থের বিশাল মজুদ রয়েছে বলে মনে করা হয়। নবায়নযোগ্য শক্তি, সামরিক প্রয়োগ এবং শিল্প অবকাঠামোতে ব্যবহারের কারণে এগুলো অত্যন্ত চাহিদাপূর্ণ।

আমেরিকা ও ইউক্রনের মধ্যে এমন সময় এসে এ চুক্তি হলো যখন চীনের সঙ্গে মার্কিন বাণিজ্য যুদ্ধ চলছে। বুধবার বিকেলে মার্কিন ট্রেজারি থেকে প্রকাশিত বিবৃতির তথ্যানুসারে, নবনির্মিত মার্কিন-ইউক্রেন পুনর্গঠন বিনিয়োগ তহবিল ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া আক্রমণের পর থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে যে উল্লেখযোগ্য আর্থিক ও বস্তুগত সহায়তা দিয়েছে তা স্বীকৃতি দেয়।

চুক্তি স্বাক্ষর করতে ওয়াশিংটনে থাকা ইউক্রেনের উপ-প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া সভিরিডেনকো এক্সে একটি পোস্টে বলেছেন, নতুন তহবিল আমাদের দেশে বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগ আকর্ষণ করবে। চুক্তির বিধানগুলো তালিকাভুক্ত করে তিনি বলেন, এতে খনিজ, তেল এবং গ্যাসের প্রকল্পগুলো জড়িত থাকবে।

তিনি আরও বলেন, এই অংশীদারত্ব সমান সমান ভিত্তিতে সমান হবে এবং কিয়েভের আইন প্রণেতাদের দ্বারা অনুমোদিত হতে হবে। চুক্তির অধীনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কিয়েভকে নতুন সহায়তা প্রদান করবে। এরমধ্যে থাকতে পারে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মতো বিষয়গুলো।

ইউক্রেনের প্রাকৃতিক সম্পদের উন্নয়নের জন্য দুই দেশের মধ্যে একটি অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের চুক্তির বিষয়ে আমেরিকা ও ইউক্রেন বেশ কয়েক মাস ধরে আলোচনা করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ফেব্রুয়ারিতে চুক্তির পূর্ববর্তী সংস্করণ স্বাক্ষর করার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু ওভাল অফিসে দুই নেতার মধ্যে প্রকাশ্যে তর্কের পরে এটি বাতিল করা হয়েছিল।