মিনিয়াপোলিস থেকে সরানো হচ্ছে বিতর্কিত অভিবাসন কর্মকর্তাকে

যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিস শহর থেকে সরে যাচ্ছেন শীর্ষ অভিবাসন কর্মকর্তা গ্রেগরি বোভিনো। তার জায়গায় সেখানে সরাসরি অভিবাসন বিরোধী অভিযান পরিচালনার দায়িত্ব নেবেন যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত ও অভিবাসন কার্যক্রম সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা প্রেসিডেন্টের বিশেষ প্রতিনিধি টম হোমান। 

সম্প্রতি ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে দ্বিতীয় এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনায় সৃষ্ট গণঅসন্তোষ প্রশমিত করতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই রদবদলের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

দুই জন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে যে, মাঠ পর্যায়ে (অন-দ্য-গ্রাউন্ড) ট্রাম্পের অভিবাসন কার্যক্রম পরিচালনার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা বোভিনোকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তটি এসেছে তাঁর এক বিতর্কিত দাবির দুই দিন পর। 

উল্লেখ্য, বোভিনো সম্প্রতি দাবি করেছিলেন যে, ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে নিহত ব্যক্তি আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের ওপর 'গণহত্যার' পরিকল্পনা করছিলেন। যদিও এই দাবির পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

বোভিনোর প্রস্থানের পর এবার থেকে মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের আইস (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) অপারেশনগুলো সরাসরি পরিচালনা করবেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সীমান্ত বিষয়ক উপদেষ্টা (বর্ডার জার) টম হোমান। তিনি ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির সমর্থক এবং সাবেক ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলেও অভিবাসন ও বহিষ্কার কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত দেশজুড়ে চলমান কড়া অভিবাসন অভিযানে ফেডারেল সরকারের আগ্রাসী অবস্থান কিছুটা শিথিল করার ইঙ্গিত দিতে পারে।

সোমবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মিনেসোটার গভর্নর টিম ওয়ালজ ও মিনিয়াপোলিসের মেয়র জ্যাকব ফ্রের সঙ্গে কথা বলেন। আলোচনাকে ইতিবাচক বলে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, তিনি ও গভর্নর ওয়ালজ একই অবস্থানে রয়েছেন। মিনিয়াপোলিসের মেয়র জ্যাকব ফ্রে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপের পর জানিয়েছেন, মঙ্গলবার থেকে কিছু ফেডারেল এজেন্ট শহরটি ত্যাগ করতে শুরু করবেন। তবে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কোনো তথ্য দেননি।

এদিকে, মিনিয়াপোলিসে কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রাণঘাতী অভিযানের পর ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের সমালোচনা করেছেন খোদ রিপাবলিকান সিনেটর টেড ক্রুজ। সোমবার নিজের এক পডকাস্টে তিনি বলেন, 'প্রশাসনের উচিত তাদের ভাষার ব্যবহারের দিকে নজর দেওয়া। কোনো ঘটনা ঘটার সাথে সাথেই তারা এমন আচরণ শুরু করে যেন কোনো এক ভয়ংকর সন্ত্রাসীকে খতম করা হয়েছে এবং তারা আনন্দ উল্লাস করতে থাকে।' 

ক্রুজ আরও যোগ করেন, 'যদি সাধারণ মানুষ দেখে যে নিহত ব্যক্তি তিন সন্তানের মা এবং তার সাথে কোনো জঙ্গি সংগঠনের সংশ্লিষ্টতা বা সুইসাইড ভেস্টের প্রমাণ নেই, তখন প্রশাসনের এই উগ্র সুর কেবল বিশ্বাসযোগ্যতাই নষ্ট করে।'

মূলত অভিযানের ধরন এবং কর্মকর্তাদের উসকানিমূলক বক্তব্যের কারণে শহরটিতে যে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তা সামাল দিতেই ট্রাম্প প্রশাসন এখন নেতৃত্বের এই রদবদলকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।

তথ্যসূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস