নেতানিয়াহুর গ্রেপ্তার চান ৪৬ শতাংশ আমেরিকান

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের জনমতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। সাম্প্রতিক ইউগভের এক জরিপ বলছে, ৪৬ শতাংশ মার্কিন নাগরিক চান নেতানিয়াহুর গ্রেপ্তার। অন্যদিকে রয়টার্স-ইপসোসের এক জরিপে দেখা যায়, প্রতি ৩ আমেরিকানের মধ্যে একজন ইরান যুদ্ধ নিয়ে সন্দিহান। একই সঙ্গে এই যুদ্ধ নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক।

গাজা যুদ্ধ দীর্ঘ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলকে ঘিরে জনমতের চিত্রও বদলে যাচ্ছে। চলতি সপ্তাহে প্রকাশিত ইউগভের জরিপে দেখা গেছে, ৪৬ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করা উচিত।

বিপরীতে তার গ্রেপ্তার চান না ২৮ শতাংশ মানুষ। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের উল্লেখযোগ্য অংশ মনে করেন, গণহত্যার অভিযোগের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা উচিত।

শুধু মার্কিন নাগরিকই নন, দেশটির ইহুদি সম্প্রদায়ের মধ্যেও নেতানিয়াহুকে নিয়ে বাড়ছে সমালোচনা। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস-এনওআরসি (AP-NORC) সেন্টার ফর পাবলিক অ্যাফেয়ার্স রিসার্চের জুনের জরিপে দেখা যায়, মাত্র এক-তৃতীয়াংশ ইহুদি-আমেরিকান নেতানিয়াহুকে ইতিবাচকভাবে দেখেন।

অন্যদিকে প্রায় ৬০ শতাংশ তার প্রতি নেতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন। এর মধ্যে ৪২ শতাংশের দৃষ্টিভঙ্গি ছিল খুবই নেতিবাচক।

একই জরিপে নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানিকে নিয়ে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। ৪৪ শতাংশ ইহুদি-আমেরিকান তাকে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করেছেন। আর ৩৯ শতাংশ নেতিবাচক মত দিয়েছেন।

ফলে ফিলিস্তিনের অধিকারের পক্ষে সরব হওয়া মামদানি জনপ্রিয়তার দিক থেকে নেতানিয়াহুর চেয়েও এগিয়ে আছেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক বাস্তবতায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত।

জরিপে আরও দেখা যায়, ৩০ শতাংশ ইহুদি-আমেরিকান মনে করেন, গাজায় ইসরায়েল গণহত্যা চালিয়েছে। এমন সময়ে এই জরিপ প্রকাশ পেল, যখন যুক্তরাষ্ট্র সফর করছেন নেতানিয়াহু।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করতে যুক্তরাষ্ট্র সফর করছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, বৈঠকে ইরান যুদ্ধের পাশাপাশি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও শান্তির পরিধি সম্প্রসারণের নানা উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হবে।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার অষ্টম বৈঠক হতে যাচ্ছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র সফরে নেতানিয়াহু অংশ নেবেন প্রয়াত রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের শেষকৃত্যানুষ্ঠানে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র সফর করছেন নেতানিয়াহু।

তার সফর ঘিরে হোয়াইট হাউসের বাইরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন আন্দোলনকারীরা।

রবিবার ফক্স নিউজকে নেতানিয়াহু বলেন, তিনি সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। এ সময় নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির সাম্প্রতিক গ্রেপ্তারের আহ্বানও প্রত্যাখ্যান করেন তিনি।