ইরানের ড্রোন আর ঠেকাতে পারছে না আমেরিকা!

যে আমেরিকা আকাশ প্রতিরক্ষায় বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী সামরিক শক্তি—সেই আমেরিকার সামরিক ঘাঁটিই নাকি ইরানের ছোট ছোট ড্রোনের সামনে একেবারে অপ্রস্তুত। চমকে দেওয়ার মতো এই খবর এসেছে খোদ মার্কিন সামরিক নেতৃত্বের কাছ থেকে। এক শীর্ষ মার্কিন কমান্ডার স্বীকার করেছেন, কিছু ঘাঁটিতে ড্রোনের ঝাঁক শনাক্ত করার মতো সেন্সরই নেই, আবার কোথাও সেগুলো ঠেকানোর পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই! আর ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যে ড্রোন ব্যবহারের অভিজ্ঞতার পর এই স্বীকারোক্তি নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে ওয়াশিংটনকে।

মার্কিন নর্দার্ন কমান্ডের ডেপুটি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল জোসেফ জারার্ড বলেছেন, ছোট ড্রোনের বড় একটি ঝাঁক মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা এখনো পর্যাপ্তভাবে প্রস্তুত নয়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হচ্ছে ডিটেকশন বা শনাক্তকরণ। কোনো ড্রোন ঘাঁটির দিকে এগিয়ে আসছে—সেটিই যদি সময়মতো শনাক্ত করা না যায়, তাহলে সেটিকে প্রতিহত করার সুযোগও অনেক কমে যায়। আর ড্রোন যদি একটির বদলে একসঙ্গে অনেক আসে, তখন সমস্যা আরও জটিল।

প্রতিটি ড্রোন ধ্বংস করতে অত্যন্ত ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করা দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর নাও হতে পারে। এ কারণেই যুক্তরাষ্ট্র এখন রেডিও-ফ্রিকোয়েন্সি সিস্টেম, জ্যামিং প্রযুক্তি, মাইক্রোওয়েভ অস্ত্র এবং উচ্চক্ষমতার লেজার নিয়ে দ্রুত কাজ করছে। পেন্টাগন ড্রোন ও কাউন্টার-ড্রোন প্রযুক্তির জন্য ২১ বিলিয়ন ডলারের বড় বরাদ্দ চেয়েছে বলেও জানা গেছে।

তবে নতুন প্রযুক্তি পুরোপুরি মাঠে কার্যকর হওয়ার আগেই বড় আকারের ড্রোন-সোয়র্ম হামলা হলে পরিস্থিতি কতটা কঠিন হতে পারে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগ। আর বিষয়টি ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের কারণে আরও গুরুত্বপূর্ণ।

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও তাদের মিত্রদের ড্রোন ব্যবহারের অভিজ্ঞতা ইতিমধ্যে মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও আঞ্চলিক অবকাঠামোর জন্য নতুন ধরনের হুমকি তৈরি করেছে। তবে মার্কিন কমান্ডারের বক্তব্যটি ছিল একটি ভয়ংকর সতর্কবার্তা। দু-একটি ড্রোন মোকাবিলা করতে পারলেও ওই সব মার্কিন ঘাঁটি এখনো বড় আকারের ছোট ড্রোনের ঝাঁক মোকাবিলায় একদম প্রস্তুত নয়।

যুদ্ধের হিসাব এখন শুধু বড় ক্ষেপণাস্ত্র আর যুদ্ধবিমান দিয়ে হচ্ছে না। একদিকে কোটি ডলারের সামরিক ব্যবস্থা, অন্যদিকে তুলনামূলক কম খরচের অসংখ্য ড্রোন—এই অসম লড়াইটাই বদলে দিতে পারে ভবিষ্যৎ যুদ্ধের হিসাব। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—এই সতর্কবার্তা এসেছে শত্রুপক্ষের কাছ থেকে নয়, আমেরিকার সামরিক নেতৃত্বের ভেতর থেকেই। তাই সামনে প্রশ্ন একটাই—ড্রোনের ঝাঁক আকাশে ওঠার আগেই যদি সেগুলো শনাক্ত করা না যায়, তাহলে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক ঘাঁটিও কতটা নিরাপদ থাকবে?