মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণা ছিল, চার-পাঁচ সপ্তাহে শেষ হবে ইরান যুদ্ধ। তবে ৬ মাসেও মিলছে না সমাধান। ইরানের সরকার পতন, পরমাণু কর্মসূচি ধ্বংস কিংবা সামরিক শক্তি গুঁড়িয়ে দেওয়া—কোনো লক্ষ্যই সম্পূর্ণ পূরণ করতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র। বরং হরমুজ প্রণালীতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ আর দীর্ঘায়িত যুদ্ধে সামরিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে উল্টো চাপে ওয়াশিংটন।
২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানজুড়ে নজিরবিহীন যৌথ হামলা করে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র। তাদের লক্ষ্য তেহরানের পরমাণু অস্ত্র তৈরি ঠেকানো। এর মধ্য দিয়েই নেতানিয়াহুর ফাঁদে পা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি ছিল, ৪-৫ সপ্তাহে শেষ হবে 'অপারেশন এপিক ফিউরি'।
কিন্তু যুদ্ধ থামেনি, ৬ মাসেও লক্ষ্য ছুঁতে পারেননি ট্রাম্প। ক্ষণে ক্ষণে বদলেছেন সামরিক অভিযানের লক্ষ্য। ইরানে সরকার পতন, পরমাণু কর্মসূচি বিলুপ্ত, সামরিক শক্তি ধ্বংস, অর্থনৈতিক চাপ থেকে হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ—সবই ছিল তার চাহিদার তালিকায়।
এখন প্রশ্ন উঠছে, ৬ মাসে কী অর্জন করলেন ট্রাম্প? প্রাপ্তি হলো, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি, আইআরজিসির শীর্ষ নেতৃত্বসহ কিছু রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড। এছাড়া, সামরিক-বেসামরিক অবকাঠামোসহ ইরানের ধ্বংসপ্রাপ্ত পরমাণু স্থাপনা। তবে খোঁজ মেলেনি ৪৪০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের। আর এতেই অন্তত সাড়ে ৩৭ বিলিয়ন ডলার গচ্চা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
তবুও আত্মসমর্পণ করেনি পারস্যের এই দেশ। হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানি সরবরাহের টুঁটি চেপে ধরে ইরান। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা করে শক্তির জানান দেয় তেহরান।
এতে প্রভাবিত বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনীতি। ক্রমান্বয়ে দুর্বল হয়ে উঠছে মার্কিন সামরিক সক্ষমতাও। আর ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ৪০ থেকে কমে দাঁড়ায় ৩৩ শতাংশে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে নভেম্বরের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে।
অন্যদিকে, এখনো অনড় যুদ্ধাহত ইরান। প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে গড়ে তোলে প্রতিরোধ, ধরে রাখে হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণও। ওয়াশিংটনের সাথে কাউন্টার-পার্ট হিসেবেই যুদ্ধবিরতি ও পরমাণু চুক্তির আলোচনায় বসছে তেহরান। এদিকে, ৪-৫ সপ্তাহের বদলে ৬ মাসে গড়ানো যুদ্ধ থেকে বেরোনোর পথ খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্র।