জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বন্ধে নতুন পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের

যুক্তরাষ্ট্রে কোনো শিশুর জন্য পাসপোর্টের আবেদন করতে হলে মা ও বাবার নাগরিকত্বের প্রমাণ চাওয়ার পরিকল্পনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের সুযোগ সীমিত করার পদক্ষেপ হিসেবেই এ উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা চলছে।

রয়টার্সকে দেওয়া এক বিবৃতিতে পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই প্রশাসন আমেরিকান নাগরিকত্বের মূল্য রক্ষা করবে। আর এর মধ্যে রয়েছে পাসপোর্ট যাচাই ও অনুমোদন প্রক্রিয়া যেন পূর্ণাঙ্গভাবে সেই মানদণ্ড প্রতিফলন করে, তা নিশ্চিত করা।’

কী আছে নতুন প্রস্তাবে?

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুদের জন্য যখন পাসপোর্টের আবেদন করা হয়, তখন মা-বাবাকে শিশুর সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক নিশ্চিত করতে হয় এবং সরকার-অনুমোদিত ছবিসহ পরিচয়পত্র জমা দিতে হয়। বর্তমান প্রক্রিয়াতেও আবেদনে মা-বাবাকে তাঁদের নাগরিকত্বের অবস্থা ঘোষণা করতে হয়, তবে অভিবাসন সংক্রান্ত কোনো নথিপত্র সাধারণত জমা দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না।

পররাষ্ট্র দপ্তরের খসড়া নির্দেশনায় এই প্রক্রিয়ায় পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, মা-বাবার তথ্য এবং তাঁদের নাগরিকত্ব বা অভিবাসন অবস্থার প্রমাণ দিতে হবে।

নতুন এই প্রস্তাব বাস্তবায়ন হলে, শিশুদের পাসপোর্টের আবেদন জমা দেওয়ার সময় মা-বাবা বা আইনি অভিভাবকদের নিজেদের নাগরিকত্বের প্রমাণ (যেমন: বৈধ মার্কিন পাসপোর্ট বা জন্মনিবন্ধন সনদ) কিংবা তাঁদের অভিবাসন অবস্থার প্রমাণপত্র (যেমন: আই-৯৪ ফরম বা গ্রিন কার্ড) জমা দিতে হবে।

প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, শিশুটি আদৌ নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্য কি না, সরকার এসব তথ্য যাচাই করে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন এই নির্দেশনার ফলে যেসব শিশুর মা-বাবা যুক্তরাষ্ট্রে কোনো বিদেশি সরকারের অধীনে চাকরি করেন, নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য জালিয়াতি বা ব্যবসায়িক লেনদেনের সাথে যুক্ত কিংবা শত্রুভাবাপন্ন বিদেশি হিসেবে চিহ্নিত, সেই শিশুদের নাগরিকত্ব দেওয়া বন্ধ করা হবে।