ভেনেজুয়েলার তেল নিয়ে বিপাকে ট্রাম্প

দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগেই ইরানের মত দেশগুলোর তেলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার কথা বারবার বলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওভাল অফিসের দায়িত্ব নিয়ে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার পথেও ধাপে ধাপে এগিয়ে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে সামরিক শক্তির মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার তেলের নিয়ন্ত্রণ নিতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন তিনি। 

ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন বলছে, আইনি জটিলতায় মুখ থুবড়ে পড়তে যাচ্ছে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এই জ্বালানি চুক্তি।

অর্থাৎ, অন্য দেশের তেলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার উচ্চাভিলাষী স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে গিয়ে বিপদেই পড়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ বছরের জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে সস্ত্রিক আটকের পর ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জ্বালানি চুক্তির ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। 

ভেনেজুয়েলার দ্বিতীয় বৃহত্তম তেল উত্তোলনকারী প্রতিষ্ঠান নর্থ আমেরিকান ব্লু এনার্জি পার্টনার্স তথা নাবেপের সঙ্গে ১০০ বছরের চুক্তি ঘোষণা করেন তিনি। এই চুক্তির অধীনে ১৭টি তেলক্ষেত্রের প্রায় ৬ হাজার ৫০০ কোটি ব্যারেল তেলের ইজারা পায় যুক্তরাষ্ট্র। তবে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বিতর্ক সৃষ্টির পাশাপাশি এবার আইনি জটিলতায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে এই পরিকল্পনা। অবাস্তব এই চুক্তি বাতিল হওয়ার বেশ কিছু সম্ভাবনাও দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

ভেনেজুয়েলার সংবিধান অনুযায়ী যেকোন প্রতিষ্ঠানের জ্বালানি উত্তোলনের জন্য সর্বোচ্চ সীমা ২৫ বছর। তাই সেখানে ১০০ বছর মেয়াদি চুক্তির কোনো সুযোগ নেই।

এই চুক্তিতে বাধা আছে খোদ মার্কিন মুলুকেও। প্রতিরক্ষা আইনে পেন্টাগনকে এই চুক্তির অংশীদারে রূপান্তর করেছেন ট্রাম্প। অথচ যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে কোনো বেসরকারি কোম্পানির শেয়ারের মালিকানা অর্জনের এখতিয়ারও এই দপ্তরের নেই। ফলে চুক্তির মাধ্যমে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি বা যুক্তরাষ্ট্রের পেট্রোলের মজুদ বাড়ানো- কোনটিই সম্ভব হচ্ছে না।

এছাড়াও পেন্টাগনের মধ্যস্ততায় ভেনেজুয়েলার কোম্পানি নাবেপ পরিচালনা করার যে পরিকল্পনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন, সেটার বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। নাবেপের মালিক আলেহান্দ্রো লোপেজের দুর্নীতির ইতিহাসও চুক্তিকে দুর্বল করে দিয়েছে। 

চুক্তির অস্বচ্ছতা আর বৈধতা নিয়ে সন্দেহের কারণেই প্রধান সারির তেল কোম্পানি ও বিনিয়োগকারীরা নিজেদের দূরে সরিয়ে রাখছেন। তাই বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রক্রিয়ায় বেতানকুর ছাড়া কেউই তেমন লাভবান হবে না। সেকারণেই এই চুক্তি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করে দিচ্ছেন তারা।