দক্ষিণ কোরিয়ার হাসপাতালগুলো এক ভয়াবহ সংকটে পড়েছে। মেডিকেল শিক্ষার্থী সংখ্যা বৃদ্ধির সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে দেশটির শিক্ষানবীশ চিকিৎসকদের ৭৪ শতাংশই পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছে। এ অবস্থায় দেশটির হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা ব্যবস্থা বিরাট সংকটে পড়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম টাইমের প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ কোরিয়ার চিকিৎসা ব্যবস্থা বেশ ভালো। রোগী–চিকিৎসকের সংখ্যার অনেক কম বলে দেশটির স্বাস্থ্যসেবা খাতের বেশ সুনাম রয়েছে বিশ্বব্যাপী। এই স্বাস্থ্য ব্যবস্থার একটি বড় অংশই এই শিক্ষানবীশ চিকিৎসকদের ওপর নির্ভর করে। দেশটিতে বর্তমানে মোট ১৩ হাজার শিক্ষানবীশ চিকিৎসক রয়েছে।
আন্দোলনের অংশ হিসেবে এই শিক্ষানবীশ চিকিৎসকদের ৯,২০০ জনই পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। যদিও এসব পদত্যাগপত্র গৃহীত হয়নি।
দক্ষিণ কোরিয়ায় উচ্চশিক্ষা পর্যায়ে মেডিকেল শিক্ষা বেশ জনপ্রিয়। চিকিৎসক পেশা হিসেবে বেশ সম্মানের। সম্প্রতি দেশটির সরকার মেডিকেল শিক্ষার পরিসর বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। শিক্ষার্থী সংখ্যা ৩ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৫ হাজার করার উদ্যোগ নিয়েছে। এ উদ্যোগ জনপরিসরে বেশ সাড়াও ফেলেছে। কিন্তু শিক্ষানবীশ চিকিৎসকদের শঙ্কা—এর মাধ্যমে পেশাটির সম্মান কমে যাবে। পাশাপাশি এখন তাদের যে আয়, তাও কমে যাবে। এ পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত বদলের দাবিতে তাঁরা ধর্মঘট শুরু করেন। ওই ধর্মঘটের অংশ হিসেবে এখন পর্যন্ত ৯ হাজারের বেশি শিক্ষানবীশ চিকিৎসক পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে ৮ হাজারের বেশি কর্মক্ষেত্র ত্যাগ করেছেন।
বার্তা সংস্থা এএফপির বরাত দিয়ে টাইম জানায়, এ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন দেশটির রোগীরা। বিশেষত হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের সংকটে পড়তে হচ্ছে। এক ক্যানসার আক্রান্ত রোগী জানিয়েছেন, এই ধর্মঘটের কারণে তিনি সময়মতো কেমোথেরাপি নিতে পারছেন না। অনেক হাসপাতালে কয়েকজন গর্ভবতী নারী জানিয়েছেন, তাঁরা তাঁদের সি–সেকশনের সময় পেছাতে বাধ্য হয়েছেন। এ পর্যন্ত এমন নানা সংকটের কথা জানিয়ে দেড় শতাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে বলে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
এ অবস্থায় দায়িত্ব নিয়েছেন দেশটির নার্সরা। তাঁরা শিক্ষানবীশ চিকিৎসকদের শূন্যস্থান পূরণে আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তবে একই সঙ্গে তাঁরা সব পক্ষকে সতর্ক করেছেন, এ অবস্থা আরও কিছুদিন চললে তাঁদের পক্ষেও আর পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হবে না বলে।
উদ্ভুত পরিস্থিতিতে দেশটির সরকার চিকিৎসকদের বাড়তি সময় দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
শুক্রবার এ সম্পর্কিত এক বিবৃতিতে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী হ্যান ডাক–সু সরকারি হাসপাতালগুলোর কর্মঘণ্টা বাড়ানোর ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে চিকিৎসকের মহান দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে শিক্ষানবীশ চিকিৎসকদের কাজে যোগ দেওয়ার আহ্বানও জানানো হয়। এতে বলা হয়, একজন চিকিৎসক হিসেবে সংঘবদ্ধভাবে এমন পদক্ষেপ নেওয়া নৈতিক নয়। চিকিৎসকের মূল কাজটি স্মরণে রাখতে হবে।