মিয়ানমারে ভয়াবহ ভূমিকম্পে বহু স্থাপনার মধ্যে সাগাইং অঞ্চলের তিনটি মসজিদও ধসে পড়ে। এ সময় মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করছিলেন মুসল্লিরা। এর মধ্যে মায়োমা এলাকার সবচেয়ে বড় মসজিদটি ধসে পড়ে ভেতরে থাকা প্রায় সব মুসল্লি মারা যান। মসজিদটির সাবেক এক ইমাম ১৭০ জন প্রিয় মানুষকে হারিয়েছেন এদিন। একসঙ্গে এতজন আত্মীয়, বন্ধু ও কাছের মানুষ হারিয়ে শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছেন তিনি।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, গত ২৮ মার্চ রমজানের শেষ শুক্রবার হওয়ায় মসজিদগুলোতে ছিল উপচে পড়া ভিড়। মিয়ানমারের সাগাইং অঞ্চলে শত শত মুসলিম নামাজ আদায় করতে মসজিদে ছুটে যান। স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ৫১ মিনিটে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পটি হয় মিয়ানমারে। সাগাইং অঞ্চলে মায়োমা, মায়োডাও ও মোয়েকিয়া– এই তিনটি মসজিদ ভূমিকম্পে ধসে পড়ে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় মায়োমা মসজিদের ভেতরে থাকা প্রায় সবাই মারা যান।
মায়োমার ওই মসজিদের সাবেক ইমাম সোয়ে নাই উ। সোয়ে বর্তমানে থাইল্যান্ডের সীমান্তবর্তী শহর মায়ে সোতে থাকেন। ভূমিকম্পটি অনুভব করেছিলেন তিনিও। পরবর্তীতে তিনি জানতে পারেন যে তাঁর প্রায় ১৭০ জন আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব ও সাবেক সহকর্মী মারা গেছেন এই ভূমিকম্পে। যাদের অধিকাংশ সেই সময় মসজিদে ছিলেন।
সোয়ে নাই উ বিবিসিকে বলেন, ‘ভূমিকম্পে মারা যাওয়া পরিচিত সবার কথা আমার মনে পড়ছে। অনেকেরই ছোট ছোট সন্তান আছে। এ বিষয়ে যখনই কথা বলছি আমার চোখের পানি আটকে রাখতে পারছি না।’
সোয়ে নাই উ জানান, মসজিদে নামাজের স্থানের বাইরে, যেখানে মুসল্লিরা ওযু করেন সেখানে অনেকের মরদেহ পাওয়া গেছে। কিছু মরদেহ অন্যদের হাত ধরা অবস্থায় পাওয়া গেছে, মনে হচ্ছে ধসে পড়া ভবন থেকে তাদের টেনে বের করার চেষ্টা করা হচ্ছিল।
সোয়ে বলেন, ‘মৃতদের মধ্যে আমার আত্মীয় ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদেরও কয়েকজন ছিল। অনেকে আছেন যারা নিকটাত্মীয় ছিলেন না, কিন্তু তারা আমাকে সম্মান করতেন, আমাকে অনুসরণ করতেন। আমরা একসাথে নামাজ পড়তাম। যখন কাছের কারও মৃত্যুর খবর শুনি তখনই শোকে নিমজ্জিত হই। বিধ্বস্ত বোধ করি অনেক।’
সাগাইংয়ের প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শহরের যে রাস্তায় মসজিদগুলো ছিল, সেই রাস্তা ও মায়োমা স্ট্রিট সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাস্তার ওপর অনেক বাড়িঘর ধসে পড়েছে।
গত শুক্রবার মিয়ানমারের সাগাইং ও দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মান্দালয়ের কাছে ভয়াবহ এই ভূমিকম্প হয়। এখন পর্যন্ত ভূমিকম্পে ২ হাজার ৭০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ধ্বংসস্তূপে এখনো মরদেহ খুঁজতে অভিযান চালাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।