কে কত গভীর ঘুমে তলিয়ে যেতে পারে, তা নিয়েই হলো টুর্নামেন্ট!    

পরিশ্রমী জাতি হিসেবে পরিচিত সাউথ কোরিয়া। তবে রাজধানী সিউলের নিদ্রাহীনতার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে এই অতিরিক্ত পরিশ্রম। তাই জনগণকে ঘুমের প্রয়োজনীয়তা স্মরণ করিয়ে দিতে অভিনব এক প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে নগর কর্তৃপক্ষ।

কর্মব্যস্ত নাগরিকদের সময়মত ঘুমাতে উৎসাহিত করতে গত কয়েক বছর ধরেই চেষ্টা করছে সাউথ কোরিয়া সরকার। তারই ধারাবাহিকতায় সিউলের হান নদীর তীরে আয়োজিত হয়েছে পাওয়ার ন্যাপ কনটেস্ট।

প্রতিযোগিদের জন্য বেশ কিছু শর্ত জুড়ে দেয় কর্তৃপক্ষ। এতে অবশ্যই ক্লান্ত অবস্থায় ও ভরপেটে অংশ নিতে হয়। ঘুমের গভীরতা যাচাইয়ে কিছুক্ষণ পরপর সবার হৃদস্পন্দন মেপে দেখা হয়। ঘুমাতে হয় অন্তত দেড় ঘণ্টা।

পাওয়ার ন্যাপ কনটেস্ট-এর আয়োজক লিম জি-ইয়ন বলেন, ‘আমাদের ঘুমের মান দিন দিন খারাপ হচ্ছে। দিনের বেলায় ছোট্ট একটা পাওয়ার ন্যাপ আপনাকে খুব দ্রুত সতেজ করতে পারে। এ ধারণা থেকেই আমারা প্রতিযোগিতা আয়োজন করেছি।’

দেড় শতাধিক প্রতিযোগী এতে অংশ নেন। সবাইকে তাক লাগিয়ে বিজয়ী হন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ৮০ বছরের বেশি এক ব্যক্তি।

প্রতিযোগিতায় রানারআপ হওয়া হোয়াং ডু-সেওং বলেন, ‘অফিসে প্রতিদিন রাত জেগে কাজ করতে হয়। তাই এই প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করতে পেরে আমি সত্যিই আনন্দিত।’

এদিকে প্রতিযোগিতায় অস্ট্রেলিয়ান প্রাণী কোয়ালার মতো সেজে এসেছেন ইউ মি-সিয়ন নামের এক ব্যক্তি। প্রতিযোগিতায় সেরা পোশাকের পুরস্কারও পেয়েছেন তিনি। পুরস্কারটা জেতার পর ইউ মি-সিয়ন বলেন, ‘কোয়ালারা গভীর ঘুমের জন্য বিখ্যাত। তাদের ঘুমের জাদু আয়ত্ব করতেই আমি কোয়ালার বেশে এসেছি।’

অর্থনৈতিক উন্নয়ন সংস্থা ওইসিডি-র জরিপে পরিশ্রমের পাশাপাশি ও নিদ্রাহীনতায় ভোগা দেশের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে সাউথ কোরিয়া। তাই কর্মব্যস্ত সিউলে বিনোদনের পাশাপাশি কিছুটা স্বস্তি এনেছে পাওয়ার ন্যাপ কনটেস্ট।