আফগানিস্তানে তালেবান ফেরার পাঁচ বছর পূর্ণ হলো। ২০২১ সালের ১৫ আগস্ট কাবুল দখলের মাধ্যমে ফিরে আসে তালেবান শাসন। এই পাঁচ বছরে আফগানিস্তানের অর্থনীতি এখনো পুনরুদ্ধার হয়নি, মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে, বিশেষ করে নারীদের অধিকার খর্ব হয়েছে। যদিও দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, তাঁদের সরকারকে নিয়ে সন্তুষ্ট আফগান জনগণ। সেই সঙ্গে বর্তমান ইসলামিক সরকারের দেশব্যাপী সমর্থন রয়েছে বলেও দাবি তাঁর।
২০২১ সালের ১৫ আগস্ট। প্রায় ২০ বছর পর কাবুল দখলের মাধ্যমে আফগানিস্তানে ফের ক্ষমতায় আসে তালেবান। আফগানিস্তানের নাম দেওয়া হয় ইসলামিক এমিরেট।
তালেবান দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় আসার পর কাবুলে সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতির দাবি করা হলেও ধস নেমেছে অর্থনীতিতে। তীব্র দারিদ্র্য, ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব এবং খাদ্য নিরাপত্তায় হিমশিম খাচ্ছে আফগানিস্তান।
আফগানিস্তানে তীব্র অপুষ্টির শিকার প্রায় ৪০ লাখ শিশু। দেশটির পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রতি ১০ শিশুর একজন এখন তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছে বলে জানিয়েছে সেভ দ্য চিলড্রেনের নতুন গবেষণা।
এদিকে নারীরা শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং জনজীবনে কঠোর বিধিনিষেধের মুখোমুখি হওয়ায় একসময় আফগানিস্তানের ভবিষ্যৎ গঠন নিয়ে আশাবাদীরা এখন হতাশ। বর্তমানে প্রায় ৭৫ শতাংশ নারী পুরুষ অভিভাবক ছাড়া বাইরে বের হওয়াকে অনিরাপদ মনে করেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।
২০২১ সালে ক্ষমতা দখলের পর নারীদের লক্ষ্য করে শতাধিক ডিক্রি জারি করেছে তালেবান। আফগানিস্তান এখন বিশ্বের একমাত্র দেশ, যেখানে নারীদের মাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা নিষিদ্ধ। ইউনেসকোর তথ্যমতে, ২০২১ সালের পর প্রায় ২৪ লাখ আফগান মেয়ে মাধ্যমিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
যদিও তালেবান সরকারের দাবি, তাঁদের সরকারকে নিয়ে সন্তুষ্ট আফগান জনগণ। বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আফগান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি বলেন, বর্তমান ইসলামিক সরকারের দেশব্যাপী সমর্থন রয়েছে। এ সময় দেশজুড়ে তাঁদের সমর্থন থাকায় বিরোধীদের সঙ্গে সংলাপের কোনো প্রয়োজন নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।