আফগানিস্তানে মেয়েদের শিক্ষা বন্ধের সিদ্ধান্ত দেশটির ভবিষ্যৎ সামাজিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য বড় এক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তালেবান সরকারের নিষেধাজ্ঞার কারণে লাখো মেয়ে বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার অধিকার থেকে। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো সতর্ক করে বলছে, দীর্ঘমেয়াদে এই নীতি আফগানিস্তানের দক্ষ জনশক্তি, উন্নয়ন ও সামাজিক কাঠামোর ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।
আফগানিস্তানে ২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই নারীদের শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণের সুযোগ ক্রমেই সংকুচিত হয়েছে।
২০২২ সালের মার্চে মেয়েদের মাধ্যমিক স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়। একই বছরের ডিসেম্বরে বিশ্ববিদ্যালয়েও নারীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়। ইউনেস্কোর তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে প্রায় ২৪ লাখ মেয়ে মাধ্যমিক শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত।
এক বছরে এই সংখ্যা আরও ২ লাখ বেড়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ২০৩০ সালের মধ্যে এই সংখ্যা ৪০ লাখে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা সংস্থাটির।
জাতিসংঘ বলছে, এই নীতির প্রভাব শুধু শিক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি দীর্ঘমেয়াদে দেশটির সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোকেও দুর্বল করছে। নারীদের শিক্ষার সুযোগ বন্ধ হওয়ার অর্থ ভবিষ্যতে দক্ষ নারী শিক্ষক, চিকিৎসক, গবেষক ও পেশাজীবীর সংকট আরও তীব্র হওয়া।
ইউনেস্কোর সমন্বয়ক হোদা জাবেরিয়ান বলেন, ‘শুরু থেকেই আমরা বলে আসছি, শিক্ষার ওপর এই নিষেধাজ্ঞার কারণে একটি প্রজন্মগত ব্যবধান তৈরি হচ্ছে। যারা শিক্ষাগ্রহণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, তাদের মাধ্যমিক পর্যায়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। এটি আফগানিস্তানের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার মানগত ঘাটতির বিষয়টিও স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে।’
এদিকে, তালেবান প্রশাসন নারী শিক্ষকদের ছেলেদের পড়ানোর ওপরও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এতে করে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশটিতে যোগ্য নারী শিক্ষকের ঘাটতি ১১ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে, বলছে জাতিসংঘ।
তবে দেশটির শিক্ষা সংকট শুধু নারী শিক্ষার নিষেধাজ্ঞাতেই সীমাবদ্ধ নয়। দীর্ঘ সংঘাত, অর্থনৈতিক সংকট ও অবকাঠামোগত দুর্বলতাও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। গত ৫ বছরে দেশটিতে বন্ধ হয়ে গেছে প্রায় এক হাজার স্কুল।
আফগানিস্তানে সামগ্রিক সাক্ষরতার হারও নেমে এসেছে ৩৭ শতাংশে। বিশ্লেষকদের মতে, একটি প্রজন্মকে শিক্ষা থেকে দূরে রাখার এই সিদ্ধান্তের দীর্ঘমেয়াদি মূল্য দিতে হতে পারে পুরো দেশকেই।



