জুলাই ও আগস্ট মাসে মিয়ানমারের চিন ও রাখাইন রাজ্যে সামরিক জান্তার হামলায় দুই শতাধিক ব্যক্তি হতাহত হয়েছেন। নিহত ও আহত ব্যক্তিদের বেশির ভাগই বেসামরিক নাগরিক বলে জানিয়েছে থাইল্যান্ডভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ইরাবতী।
বিশ্লেষকদের মতে, আরাকান আর্মিকে শান্তি আলোচনায় বসাতে এমন হামলাকে কৌশল হিসেবে ব্যবহার করছে জান্তা সরকার। তবে একে সরাসরি যুদ্ধাপরাধ আখ্যা দিয়েছে আরাকান আর্মি। তাদের দাবি, জান্তা শান্তির কথা বললেও বাস্তবে তার কোনো লক্ষণ নেই।
মিয়ানমারের সেনাপ্রধান হিসেবে মিন অং হ্লাইংয়ের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন ইয়ে উইন ও। কিন্তু ক্ষমতার হাতবদল হলেও ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি দেশটির সাধারণ মানুষের, বরং দিন দিন বেড়েই চলেছে সংঘাত।
গত জুলাই ও আগস্টে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রিত চিন ও রাখাইন রাজ্যে অন্তত ২৭টি বিমান হামলা চালায় মিয়ানমার সামরিক বাহিনী। এতে দুই শতাধিক মানুষ হতাহত হন।
সংবাদমাধ্যম দ্য ইরাবতী জানায়, জুলাই মাসে জান্তার হামলায় ১৫ জন নিহত ও ৮৭ জন আহত হন। আগস্টে হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৮ এবং আহত ৭৮ জন। নিহতদের মধ্যে ৫৩ জন এবং আহতদের মধ্যে ১৬৩ জনই নিষ্পাপ বেসামরিক নাগরিক, যাদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে।
আরাকান আর্মি জানায়, চলতি বছরের প্রথমার্ধেই সামরিক হামলায় ৮৩ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ১৮৭ জন আহত হয়েছেন। কোনো সামরিক লক্ষ্যবস্তু নেই—এমন বেসামরিক এলাকাগুলোতেও জান্তা বাহিনী হামলা চালাচ্ছে বলে দাবি বিদ্রোহীদের।
রাখাইনভিত্তিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, আরাকান আর্মিকে আলোচনার টেবিলে আনতেই এ ধরনের বর্বর হামলাকে কৌশল হিসেবে ব্যবহার করছে মিয়ানমার জান্তা।
অবশ্য বিমান হামলাকে যুদ্ধাপরাধ বলছেন আরাকান আর্মির মুখপাত্র। তিনি জানান, জান্তা সরকার মুখে শান্তি আলোচনার কথা বললেও বাস্তবে কোনো ইতিবাচক পদক্ষেপ দেখাচ্ছে না।
এদিকে আলোচনার কথা চললেও রাজপথে দুই পক্ষের তীব্র লড়াই অব্যাহত রয়েছে। বিদ্রোহীদের শক্ত প্রতিরোধের মুখে জান্তা ছাড়ছেন অনেক সেনা সদস্য। দ্য ইরাবতী জানিয়েছে, জান্তার নিয়ন্ত্রণে থাকা রাখাইনের রাজধানী সিত্তে দখলের জন্য পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে আরাকান আর্মি।