রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তার দীর্ঘদিনের বন্ধু সের্গেই শোইগুকে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন। তাঁর স্থলে ভারপ্রাপ্ত প্রথম উপ-প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেই বেলোসভের নাম প্রস্তাব করেছেন তিনি। গতকাল রোববার রুশ পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষে তিনি এ প্রস্তাব উত্থাপন করেন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, ৬৮ বছর বয়সী শোইগু ২০১২ সাল থেকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পুতিন এবার তাঁকে রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন।
সের্গেই শোইগু রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের ঘনিষ্ট বন্ধু হিসেবে পরিচিত। পুতিন যখন তাঁর জন্মভূমি সাইবেরিয়ায় মাছ ধরতে যান, তখন প্রায়ই তাঁর মাছ শিকারের সঙ্গী হন শোইগু। তাঁর সামরিক অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও পুতিন তাঁকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। পেশায় সিভিল ইঞ্জিনিয়ার শোইগু ১৯৯০ সালে দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন।
গত বছর ইউক্রেন যুদ্ধের সময় ভাড়াটে যোদ্ধা গোষ্ঠী ওয়াগনার গ্রুপের প্রধান প্রিগোজিনের সঙ্গে প্রকাশ্য বিরোধে জড়িয়ে পড়েছিলেন শোইগু। সে সময় প্রিগোজিন তাঁকে ‘বয়স্ক ক্লাউন’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন।
বিবিসি জানিয়েছে, শোইগুর স্থলাভিষিক্ত হতে যাওয়া বেলোসভের অল্পবিস্তর সামরিক অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি একজন ঘাঘু অর্থনীতিবিদ হিসেবেই বেশি পরিচিত।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, পুতিন সম্ভবত অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টায় আন্দ্রেই বেলোসভের দ্বারস্থ হয়েছেন। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, একজন বেসমারিক ব্যক্তিকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া নিঃসন্দেহে নতুন আবিষ্কার।
এদিকে স্থানীয় গণমাধ্যম রাশিয়া টুডে জানিয়েছে, পদ বদলির বিষয়ে রুশ সিনেটররা আগামী ১৩ মে কমিটির অধিবেশন এবং ১৪ মে ফেডারেশন কাউন্সিলের বৈঠকে মনোনীত প্রার্থীদের বিষয়ে আলোচনা করবেন বলে জানা গেছে।
প্রেসিডেন্ট পুতিনের মনোনীত অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদের জন্য ভ্লাদিমির কোলোকোল্টসেভ, জরুরী পরিস্থিতি মন্ত্রীর জন্য আলেকজান্ডার কুরেনকভ, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর জন্য সের্গেই লাভরভ এবং বিচারমন্ত্রীর জন্য কনস্ট্যান্টিন চুইচেঙ্কো।
এ ছাড়া প্রথম উপ-প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ডেনিস মান্টুরভকে মনোনীত করেছেন পুতিন। এর আগে তিনি শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।