প্রাণঘাতী ভাইরাস ইবোলার নতুন ধরন বুন্দিবুগিও মোকাবিলায় নতুন টিকা তৈরির দাবি করেছে রাশিয়া। আফ্রিকার কয়েকটি দেশে যখন এই ভাইরাসের সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে, তখন রুশ বিজ্ঞানীদের এই ঘোষণাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন আলোচনা।
তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, প্রয়োজনীয় ক্লিনিক্যাল তথ্য-উপাত্ত ছাড়া এই টিকাকে স্বীকৃতি দেয়ার সুযোগ নেই।
ভাইরাসজনিত প্রাণঘাতী রোগ ইবোলার নতুন ধরন বুন্দিবুগিওকে মোকাবিলায় নতুন টিকা তৈরি করেছেন রুশ বিজ্ঞানীরা। মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় এ ঘোষণা দিয়েছে সাউথ আফ্রিকার রুশ দূতাবাস।
সম্প্রতি আফ্রিকার মধ্যাঞ্চলীয় দেশ ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক কঙ্গো এবং প্রতিবেশী দেশ উগান্ডায় ইবোলার প্রাদুর্ভাব ঘটে। তবে ডি আর কঙ্গোতে প্রাদুর্ভাবের তীব্রতা অনেক বেশি। গত এক মাসে দেশটিতে ইবোলায় প্রাণ গেছে দুই শতাধিকের।
এ পর্যন্ত ইবোলার ছয়টি ধরন শনাক্ত হয়েছে। এরমধ্যে ২০১৪ সাল থেকে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ঘটিয়েছে জাইর প্রজাতিটি। তবে কঙ্গো এবং উগান্ডায় প্রাদুর্ভাবের জন্য ইবোলার বুন্দিবুগিও প্রজাতির ভাইরাসকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ইবোলা ভাইরাসের প্রধান শিকার মানুষ এবং শিম্পাঞ্জি, গরিলা, ওরাংওটাংয়ের মতো প্রাইমেট গোত্রীয় বিভিন্ন প্রানী। আক্রান্ত ব্যক্তি বা প্রাণীর রক্ত, লালা, ঘাম, বমি, মল-মূত্র বা অন্যান্য শারীরিক তরলের সাথে সরাসরি সংস্পর্শে এলে এই ভাইরাস ছড়ায়।
ফলখেকো বাদুড়কে ইবোলার প্রাকৃতিক বাহক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে এই বাদুড় নিজে ইবোলায় আক্রান্ত হয় না; শুধু ভাইরাসটি বহন করে। বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায় না বলে অন্যান্য ভাইরাসজনিত রোগের তুলনায় কম সংক্রামক ইবোলা।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, কঙ্গোতে সাম্প্রতিক প্রাদুর্ভাবে মৃত্যুহার ৪০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত দেখা গেছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাশিয়া যতক্ষণ পর্যন্ত টিকার ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল ও আনুষাঙ্গিক তথ্য-উপাত্ত জমা না দিচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই টিকাকে স্বীকৃতি দেয়া উচিত হবে না ডব্লিউএইচওর।



