রানওয়েতেই দুবার কমল গতি, অলৌকিকভাবে বাঁচলেন ২৮৭ আরোহী

জার্মানির মিউনিখ বিমানবন্দরে ভিয়েতনাম এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট ওড়ার সময় চরম বিপজ্জনক পরিস্থিতির মুখে পড়েছে। টেকঅফ করার সময় রানওয়েতে বোয়িং ৭৮৭-৯ মডেলের উড়োজাহাজটির ট্র্যাকিং স্পিড দুই দফা কমে যায়। পরে রানওয়ে ছাড়ার মাত্র ৩০০ ফুট বাকি থাকতে কোনোমতে ফ্লাইটটি শূন্যে ওড়ে।

গত ১৫ আগস্ট স্থানীয় সময় দুপুরে ফ্লাইটটি মিউনিখ থেকে ভিয়েতনামের হ্যানয়ের উদ্দেশে যাওয়ার কথা ছিল। এতে ২৭১ জন যাত্রী ও ১৬ জন ক্রু ছিলেন। তাঁরা সকলেই নিরাপদ আছেন।

ভিয়েতনামের সিভিল এভিয়েশন অথরিটি জানিয়েছে, টেকঅফের মাঝামাঝি সময়ে উড়োজাহাজটির গতি প্রায় দুই সেকেন্ডের জন্য থমকে যায়। পরে গতি ফিরে আসে এবং ওড়ার জন্য প্রয়োজনীয় গতিসীমায় পৌঁছায়। তবে সেই মুহূর্তে ফের ফ্লাইটটির গতি কমে আসে। পাইলট যখন বুঝতে পারেন, টেকঅফ বাতিল করে নিরাপদে থামার জন্য পর্যাপ্ত রানওয়ে অবশিষ্ট নেই, তখন তিনি উড়োজাহাজটি ওড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। পরে উড়োজাহাজটি রানওয়ের একদম শেষ প্রান্তে গিয়ে আকাশে ওড়ে।

এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টেকঅফের পরপরই উড়োজাহাজটির ককপিটে টেল স্ট্রাইক এবং টায়ারের অস্বাভাবিক চাপের বিষয়ে সতর্কতা বার্তা ভেসে ওঠে। পাইলট বিষয়টি এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলকে জানিয়ে মিউনিখে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন। প্রয়োজনীয় ওজন কমাতে উড়োজাহাজটি আকাশে প্রায় দুই ঘণ্টা চক্কর দিয়ে মিউনিখে নিরাপদেই অবতরণ করে।

পরবর্তীতে পরিদর্শনে দেখা যায়, টেল স্ট্রাইক এবং চারটি টায়ার ফেটে যাওয়ায় উড়োজাহাজটির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। টেকঅফের সময় উড়োজাহাজটির গতি কেন দুবার কমে গেল, তা খতিয়ে দেখছে জার্মানি ও ভিয়েতনামের বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। উড়োজাহাজটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং এবং ইঞ্জিন প্রস্তুতকারক কোম্পানি যৌথভাবে তদন্তকারীদের সাথে সহযোগিতা করছে।