মানবাধিকার আর অংশীদারত্বের ভাষণ দিয়ে বেড়ালেও অভিবাসন সংকট মোকাবিলায় নৈতিকতার কোনো তোয়াক্কাই করছে না ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। বিশ্লেষকদের মতে, স্পেনের সিউটা ছিটমহলে শরণার্থীর ঢল নিয়ে কূটনীতি ব্রাসেলসের ভণ্ডামির মুখোশ খুলে দিয়েছে। আর সামনে এনেছে ইউরোপের রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের নোংরা রাজনীতিকে।
যুগ যুগ ধরে আফ্রিকাকে প্রাকৃতিক সম্পদের গুদাম হিসেবে ব্যবহার করে আসলেও সেখানকার অর্থনৈতিকে বাঁচাতে তেমন কোনো পদক্ষেপই নেয়নি ইউরোপ। উল্টো নিজেদের সীমান্ত রক্ষায় বাফার স্টেট হিসেবে ব্যবহার করেছে উত্তর আফ্রিকার দেশগুলোকে।
এবার স্পেনের সিউটা ছিটমহলে শরণার্থীর ঢল নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নোংরা রাজনীতি আবারও প্রমাণ করেছে সেই সাম্র্যাজ্যবাদি আচরণ থেকে এখনও বেরিয়ে আসতে পারেনি পশ্চিমা জোট। বিশ্লেষকদের মতে, স্পেনের এই শরণার্থী সংকট নিছক কোনো দুর্ঘটনা নয়। বরং এর পেছনে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউর পরিকল্পিত কৌশল।
স্পেনের বিপদের শুরুটা হয়েছিল গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরোধিতা করে। আর ইরান যুদ্ধে ওয়াশিংটনকে সামরিক ঘাঁটি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরাগভাজন হয়েছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। বিশ্লেষকদের অভিযোগ, মাদ্রিদের এই নৈতিক অবস্থানকে দমন করতেই শরণার্থী সংকটকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে রক্ষণশীল পশ্চিমা সরকারগুলো।
আর তাই মরক্কোর চাপের কারণে স্পেন যখন সীমান্ত সংকটে পড়েছে, তখন সহায়তার বদলে মাদ্রিদকে রাজনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে ইইউ নেতারা। স্পেনের এই দুর্দিনে সংহতি প্রকাশের পরিবর্তে দেশটির সঙ্গে অবাধ চলাচলের শেনগেন চুক্তি স্থগিত করে দিয়েছে ইতালি ও ডেনমার্কের মতো দেশগুলো।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন তার কৌশলগত স্বার্থ উদ্ধার করতেই শরণার্থী সংকটকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। মানবাধিকারের স্লোগান আড়ালে নিজের স্বার্থ উদ্ধারেই ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন ইইউ নেতারা।