শুরুতেই গোলমাল দেখা গেছে ভারতীয় পার্লামেন্টের শীতকালীন অধিবেশনে। আজ সোমবার (২৫ নভেম্বর) সংসদের শীতকালীন অধিবেশন শুরু হয়। প্রথম দিনই ধনকুবের গৌতম আদানি ইস্যুতে সংসদে হট্টগোল দেখা দেয়। বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, এর জেরে সংসদের অধিবেশন মুলতবি (স্থগিত) করতে হয়।
ঘুষের অভিযোগ এনে গত বুধবার গৌতম আদানি ও তাঁর ভাতিজা সাগর আদানির বিরুদ্ধে মামলা করেছে আমেরিকার সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন। মামলায় বলা হয়েছে, আদানি গ্রুপকে ৭৫০ মিলিয়ন ডলার ঘুষ দেওয়ার সঙ্গে তাঁরা জড়িত ছিলেন। এটি কোম্পানির ঘুষবিরোধী নীতি ও আইনের পরিপন্থী।
এ অভিযোগের ব্যাপারে গৌতম আদানিকে ২১ দিনের মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন নিউইয়র্কের ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল কোর্ট। এ ছাড়া মার্কিন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আদানিদের ওপর অনির্দিষ্ট আর্থিক জরিমানা ও বিধিনিষেধ চেয়েছে।
সোমবার আদানি ইস্যু যে সংসদে তোলা হবে, সেই ঘোষণা গত সপ্তাহেই দিয়ে রাখেন ভারতের বিরোধী দলের নেতারা। সোমবার ভারতের উপরাষ্ট্রপতি ও সংসদের উচ্চকক্ষের চেয়ারম্যান জগদীপ ধনখর বলেন, আদানি ইস্যু নিয়ে আলোচনার দাবি জানিয়ে এমপিদের কাছ থেকে ১৩টি নোটিশ পেয়েছেন তিনি। তবে সেগুলো সংসদের নিয়ম মেনে হয়নি। তাই আলোচনার অনুমোদন দিতে পারেননি।
এ সময় জগদীপ ধনখর মল্লিকার্জুন খাড়গেকে সংসদে কথা বলার আমন্ত্রণ জানান। তবে অন্য এমপিরা এতে বাধা দেন। এই কারণে জগদীপ প্রথমে সাময়িক এবং পরে পুরো দিনের জন্য অধিবেশন মুলতবি করেন।
কিছুক্ষণ পর সংসদের নিম্নকক্ষেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়। ফলে স্পিকার সেখানেও আজকের মতো অধিবেশন স্থগিত করে দেন।
আগামী বুধবার লোকসভা ও রাজ্যসভায় পুনরায় অধিবেশন শুরু হবে। সেদিনও আদানি ইস্যু, মণিপুরে সহিংসতা, ওয়াকফ বিলসহ একাধিক ইস্যুতে মোদি সরকারকে একহাত নিতে পারেন বিরোধীরা।
এদিকে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগে মার্কিন আদালতে মামলা ও সমন জারির পর এবার ভারতের সুপ্রিম কোর্টেও মামলা হয়েছে গৌতম আদানির বিরুদ্ধে। ভারতের এই শীর্ষ ধনকুবেরের বিরুদ্ধে মামলাটি করেছেন অ্যাডভোকেট বিশাল তিওয়ারি।
বিশাল তিওয়ারি তাঁর মামলায় আদানি গোষ্ঠীকে ‘অর্থ জালিয়াতি’ ও ‘স্টক ম্যানিপুলেশন’–এর জন্য অভিযুক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, আদানি গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে ২০ হাজার কোটি রুপি শেয়ার বিক্রি বাতিল করেছে।