দিল্লিতে চলমান বিক্ষোভ থেকে শিক্ষার্থীদের দূরে থাকতে নির্দেশ দিয়েছে ভারতের দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে যন্তর মন্তরে আয়োজিত প্রতিবাদ কর্মসূচিসহ যেকোনো জমায়েত থেকে শিক্ষার্থীদের দূরে থাকার পরামর্শ দিয়ে গত বৃহস্পতিবার সতর্কবার্তা দেয় দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এই নির্দেশনার কড়া সমালোচনা করেছেন ভারতের লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। শুক্রবার নিজের এক্স হ্যান্ডলে দেওয়া ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ায় রাহুল লেখেন, ‘গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করার জন্য শিক্ষার্থীদের হুমকি দেওয়ার সাহস হয় কীভাবে আপনাদের?’ তিনি আরও যোগ করেন, এর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জবাবদিহি করতে হবে।
বৃহস্পতিবার দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘যন্তর মন্তরে যেকোনো বেআইনি জমায়েত বা বিক্ষোভ প্রদর্শন ভারতের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত। এর ফলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে, যা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এবং তাদের শিক্ষাগত অগ্রগতি ও পেশাগত সুযোগের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।’
একইভাবে জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ও (জেএনইউ) শুক্রবার সকালে তাদের শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনে যোগ না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির সতর্কবার্তায় বলা হয়, সকল অংশীদারকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে এবং নতুন দিল্লির যন্তর মন্তরের সমাবেশ থেকে বিরত থাকতে হবে। আন্দোলনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অসদব্যবহার করলে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দেয় প্রতিষ্ঠানটি।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর এমন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মহল থেকে তীব্র সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। চলচ্চিত্র নির্মাতা পূজা ভাট এক্সে লেখেন, ‘শিক্ষার্থীদের কণ্ঠ দমন করা হলে তাদের নিরাপত্তা আরও বেশি ঝুঁকিতে পড়ে। আমাদের নীরবতার ষড়যন্ত্র না করে কথা বলার অধিকারকে সমর্থন করা উচিত।’
কংগ্রেস সংসদ সদস্য ও দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী দীপেন্দার সিং হুডাও এই বিজ্ঞপ্তির তীব্র সমালোচনা করে, সুপ্রিম কোর্টের কোন রায়ে যন্তর মন্তরের সমাবেশকে বেআইনি ঘোষণা করা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
কয়েক দিন আগে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (আইআইটি) রুরকি এবং আইআইটি মাদ্রাসেও একই ধরনের নির্দেশনা ও পোস্ট মুছে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়, যা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়।