শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে আলটিমেটাম, সময় চেয়েছে মোদি সরকার 

প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ভারতের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনের মধ্যেই ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সঙ্গে বৈঠক করেছে সরকার। সিদ্ধান্ত জানাতে আজ বিকেল পর্যন্ত সময় নিয়েছে সরকার। আন্দোলনকারীরা বলছেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আরও বড় হবে বিক্ষোভ। 

দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা বৈঠক করে ককরোচ জনতা পার্টি। শুক্রবার বিকেলে প্রায় ২ ঘণ্টার আলোচনায় আন্দোলনকারীদের ৩টি মূল দাবি ও পরীক্ষা সংস্কার নিয়ে আলোচনা হয়। সিজেপি আন্দোলনের নেতারা বলেছেন, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের বিষয়ে নিজেদের অবস্থান জানাতে শনিবার বিকেল পর্যন্ত সময় চায় সরকার।

বৈঠকে অংশ নেন মোদি সরকারের দুই মন্ত্রী জেপি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং। আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিত্ব করেন সিজেপির মুখপাত্র অশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাস। সিজেপির নেতারা জানান, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ছাড়া অন্য কোনো প্রস্তাব তারা মানবেন না বলে বৈঠকে জানিয়ে দিয়েছেন। 

সিজেপি মুখপাত্র অশুতোষ রাঙ্কা বলেন, ‘পদত্যাগের দাবি নিয়ে সরকারের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সরকার শনিবার বিকেল পর্যন্ত সময় চেয়েছে। আমরা জানিয়েছি, পুরো দেশে এই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ছে এবং ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করলে এটি আরও বড় হবে।’

সিজেপি জানিয়েছে, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার এবং ক্ষতিগ্রস্ত নিট পরীক্ষার্থীদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণের বিষয়ে নীতিগত সম্মতি দিয়েছে সরকার।

ভারতের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা বলেন, ‘তাদের ৩টি প্রধান দাবি এবং পরীক্ষাব্যবস্থা নিয়ে পাঁচটি সংস্কার প্রস্তাব ছিল। আমরা জানিয়েছি, শনিবার বিকেলে আবার বৈঠক হবে এবং সরকারের সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানানো হবে।’

এদিকে প্রশ্নপত্র ফাঁস ইস্যুতে চাপ বাড়াচ্ছে বিরোধীরাও। কংগ্রেস জানিয়েছে, দিল্লিতে নতুন করে বিক্ষোভের পাশাপাশি দেশজুড়ে মোমবাতি মিছিল ও সত্যাগ্রহ কর্মসূচি পালন করবে তারা। এছাড়া সোমবার ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভে যোগ দেবেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

অন্যদিকে পাবলিক পরীক্ষা আইনের সংশোধনী অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। এতে প্রশ্ন ফাঁসে জড়িতদের সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড এবং ১০ কোটি রুপি পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। বিলটি পার্লামেন্টে উঠতে পারে সোমবার।