পরীক্ষাব্যবস্থার দুর্নীতির অভিযোগে পদত্যাগে বাধ্য হয়েছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। শিক্ষার্থীদের ঐতিহাসিক চাপের মুখে নতি স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে অনমনীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার। মোদির রাজনৈতিক জীবনে এই বিরল দৃষ্টান্ত দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি করেছে নতুন সমীকরণ। এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
দিল্লির যন্তরমন্তরে টানা ৩৬ দিন ধরে চলা আন্দোলন যেন রূপ নিয়েছিল এক মহাকুম্ভে। বাঙালি, বিহারী, তামিল কিংবা মাড়োয়ারি- সব বিভেদ ভুলে ককরোচ জনতা পার্টির ডাকে রাজপথে নেমেছিল গোটা তরুণ প্রজন্ম।
পুলিশের লাঠিচার্জ আর ইন্টারনেট-মেট্রো স্টেশন বন্ধের কড়াকড়ির পরও দমে যায়নি শিক্ষার্থীরা। সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের অনশন ভাঙা নিয়ে কিছুটা সংশয় তৈরি হলেও, ককরোচ পার্টি তাদের দাবিতে অনড় থাকে। শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করতে বাধ্য হন নরেন্দ্র মোদি সরকারের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ আন্দোলন শুধু শিক্ষাব্যবস্থার অনিয়মের বিরুদ্ধে ছিল না; এর পেছনে ছিল লাখো তরুণের বেকারত্ব ও অনাস্থা। ঐতিহাসিক কৃষক আন্দোলনের পর এটি মোদি সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় ধাক্কা।
কিংস কলেজ লন্ডনের সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক ক্রিস্টোফ জাফরেলো বলেন, ‘এই প্রতিবাদ সরকারের দীর্ঘ পথযাত্রারর ক্লান্তিকে প্রতিফলিত করছে। বর্তমান প্রজন্ম তরুণ ও প্রাণবন্ত। কিন্তু সরকার তার ঠিক বিপরীত। এ আন্দোলন তাই মোদিকে সবার সামনে– আগেরকার দিনের মানুষ হিসেবে তুলে ধরেছে।’
প্রতিবেশী বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে মিল থাকলেও, ভারতের রাজনীতিতে এই ছাত্র ঐক্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন হিসাব-নিকাশ। বিশেষ করে, আগামী বিধানসভা নির্বাচন এবং বিহার-অন্ধ্রপ্রদেশের রাজনীতিতে সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে পারে। এমনটাই মত বিশ্লেষকদের।
মন্ত্রী বিসর্জন দিয়ে নরেন্দ্র মোদি পরিস্থিতি সামাল দিলেও, সংঘবদ্ধ ছাত্রশক্তির কাছে সরকারের এই নতিস্বীকার বুঝিয়ে দয়েছে জনগণের ঐক্য কতটা শক্তিশালী হতে পারে। যন্তর মন্তরের রাজপথ হয়তো শান্ত হয়েছে ঠিকই, কিন্তু ভারতীয় রাজনীতির আকাশে যে কালো মেঘ জমেছে, তার পরিণতি কোন দিকে যাবে সেটিই এখন দেখার বিষয়।