শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর তিনটি বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের সামনে ভারতের বিজেপি সরকার। ওড়িশায় গুরুত্বপূর্ণ একজন নেতার শূন্যতা, নিট পরীক্ষা ইস্যুতে তরুণদের ক্ষোভ এবং অরাজনৈতিক যুব আন্দোলন বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির সাথে যুক্ত হওয়ার আশঙ্কা--- এই তিন চ্যালেঞ্জ নিয়েই চিন্তিত মোদির দল।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, ১৯৫৬ সালে তামিলনাড়ু ট্রেন দুর্ঘটনার জেরে পদত্যাগ করেছিলেন ভারতের তৎকালীন রেলমন্ত্রী লালবাহাদুর শাস্ত্রী। ১৯৫৮ সালে মুন্ধড়া কেলেঙ্কারির পর পদ ছাড়েন অর্থমন্ত্রী টি টি কৃষ্ণামাচারী।
১৯৯৩ সালে বিমান দুর্ঘটনার নৈতিক দায় স্বীকার করে পদত্যাগ করেন মাধবরাও সিন্ধিয়া। আর ২০০৮ সালে মুম্বাই হামলার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ ছাড়েন শিবরাজ পাতিল। পরে অবশ্য সবাই সরকারে ফিরেছিলেন।
সেই বাস্তবতায় এবার প্রশ্ন উঠছে, জেন-জি আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করা শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানও কি সরকারে ফিরবেন? বিশ্লেষকরা বলছেন, ধর্মেন্দ্রর পদত্যাগকে অতীতের উদাহরণের সাথে পুরোপুরি তুলনা করা যায় না। কারণ এবার চাপ তৈরি করেছে মূলত নেতাহীন, অরাজনৈতিক যুব আন্দোলন।
ধর্মেন্দ্র প্রধান ছিলেন ওড়িশায় বিজেপির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ এবং কেন্দ্র ও রাজ্য সংগঠনের মধ্যে অন্যতম প্রধান সেতু। তার সরে যাওয়া বিজেপির অভ্যন্তরীণ সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে।
অন্যদিকে, নিট প্রশ্নফাঁস ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়ে তরুণদের ক্ষোভ এখন উত্তর প্রদেশের রাজনীতিতে বড় ইস্যু। এই ক্ষোভের সাথে কংগ্রেস বা সমাজবাদী পার্টির মতো বিরোধী দলগুলো যুক্ত হলে বিজেপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
সিজেপির আন্দোলন কোনো প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলের নিয়ন্ত্রণে না থাকায়, বিজেপি ও বিরোধী দল-কেউই এ ক্ষোভকে নিজস্ব রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত করতে পারছে না।
বিশ্লেষকদের মতে, বিজেপির কৌশল হবে আন্দোলনের ক্ষোভ প্রশমিত করা এবং তা বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর নিয়ন্ত্রণে যেতে না দেয়া। তবে এই কৌশল ব্যর্থ হলে, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ বিজেপির জন্য বড় রাজনৈতিক সুযোগ হারানোর মুহূর্ত হয়ে উঠতে পারে।