বড় পরীক্ষায় হেরে গেল মোদির বিজেপি!

প্রশ্নফাঁস নিয়ে আন্দোলনের রেশ কাটার আগেই তিনটি বিধানসভা উপনির্বাচনের দুটিতে হেরেছে ক্ষমতাসীন বিজেপি। বিহার, মধ্যপ্রদেশ ও গুজরাটে ভোটের এই ফলাফল রাজনৈতিক মহলে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

তবে এই ফল বিরোধী জোটের জন্যও পুরোপুরি সুখবর নয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সবচেয়ে বড় চমক বিহারের ব্যাঙ্কিপুরে। ২০০৮ সালে আসনটি গঠনের পর থেকে প্রতিবারই জিতেছে বিজেপি। কখনও ৫৯ শতাংশের কম ভোটও পায়নি দলটি। কিন্তু এবার সেই দুর্গ ভেঙে দিয়েছেন রাজনৈতিক কৌশলবিদ থেকে রাজনীতিক হওয়া প্রশান্ত কিশোর।

জন সুরাজ পার্টির প্রার্থী হিসেবে তিনি প্রায় ২০ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয় পেয়েছেন। পেয়েছেন মোট ভোটের ৪৯ দশমিক ২৩ শতাংশ।

অন্যদিকে, গত বছরের বিধানসভা নির্বাচনে ৬২ শতাংশের বেশি ভোট পাওয়া বিজেপির ভোট নেমে এসেছে ৩৪ দশমিক ৪ শতাংশে।

বিশ্লেষকদের মতে, শেষ মুহূর্তে প্রার্থী পরিবর্তন, বিহারের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে উচ্চবর্ণের ভোটারদের একাংশের অসন্তোষ ও প্রশ্নফাঁসবিরোধী শিক্ষার্থী আন্দোলনের প্রভাব—সব মিলেই এই ফল।

প্রশ্নফাঁসবিরোধী আন্দোলনের জেরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। এরপর এটিই ছিল বিজেপির প্রথম বড় নির্বাচনী পরীক্ষা। বিশ্লেষকদের মতে, দিল্লির যন্তর-মন্তরের পাশাপাশি বিহারেও আন্দোলনের প্রভাবের প্রতিফলন দেখা গেছে এই ফলাফলে।

মধ্যপ্রদেশের দাতিয়া আসনে কংগ্রেসের ঘনশ্যাম সিং ৬ হাজার ভোটে বিজেপি প্রার্থীকে হারিয়েছেন। তবে আগের নির্বাচনেও আসনটি কংগ্রেসের দখলে থাকায় একে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখছেন না বিশ্লেষকরা। তবে গুজরাটের মাঞ্জালপুরে নিজেদের শক্ত ঘাঁটি ধরে রেখেছে বিজেপি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই উপনির্বাচনের ফল বিজেপির জন্য স্পষ্ট সতর্কসংকেত। তবে বিরোধী শিবিরেরও খুব বেশি উচ্ছ্বসিত হওয়ার সুযোগ নেই। কারণ, বিজেপির হারানো ভোট মূল বিরোধী দলগুলোর কাছে না গিয়ে নতুন ও আঞ্চলিক রাজনৈতিক শক্তির প্রতিই বেশি ঝুঁকেছে।