কাশ্মীরের ‘রাবার বয়ের’ অবিশ্বাস্য কীর্তি

রাবারের তৈরি কোনো বস্তুকে তার নমনীয়তার জন্য খুব সহজেই যেকোন ছোট জায়গা দিয়ে বের করা সম্ভব। কিন্তু সেই একই কাজ যদি একজন মানুষ করেন তাহলে যে কারো চোখ কপালে উঠতে বাধ্য। এমন সব অবিশ্বাস্য কাজ করেই আলোচনায় উঠে এসেছেন কাশ্মীরের সায়াম হায়দার। 

শরীরের অবিশ্বাস্য নমনীয়তার কারণে তিনি পেয়েছেন ‘রাবার বয়’ খেতাব। মাত্র ১৩ বছর বয়সে ইউটিউব দেখে শুরু করেন নাচ ও শরীরচর্চা। পাশাপাশি আয়ত্ত করেন যোগব্যায়াম, স্ট্রেচিং ও কনটরশনের কঠিন কৌশল। 

এই যেমন, টেনিস র‍্যাকেটের ছোট ফ্রেমের ভেতর দিয়ে অনায়াসেই বেরিয়ে আসতে পারেন সায়াম। এর পাশাপাশি শরীরকে অবিশ্বাস্যভাবে বাঁকিয়ে মুহূর্তেই মাথা প্রায় ১৮০ ডিগ্রি ঘুরিয়ে নিতে পারেন সায়াম। এমন সব দুর্দান্ত কসরত দেখিয়ে পেয়েছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিও।

কাশ্মীরের এই কন্টরশনিস্ট বলেন, ‘২০১০ সালের দিকে ইউটিউবে পপিং আর অ্যানিমেশন ড্যান্সের ভিডিও দেখতাম। সেখান থেকেই এই ধরনের পারফরম্যান্সের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। এরপর নিজেই অনুশীলন শুরু করি। পরে কনটরশন বা শরীর বাঁকানোর কৌশলও শেখা শুরু করি।’ 

প্রায় এক দশকের প্রশিক্ষণ শেষে ভারতের বিভিন্ন স্থানে পারফর্ম করেন সায়াম এবং অংশ নেন ইন্ডিয়াস গট ট্যালেন্ট-এ। জনপ্রিয় শো আমেরিকাস গট ট্যালেন্টে আমন্ত্রণ পেলেও স্পনসরের অভাবে যাওয়া হয়ে উঠেনি। 

নিজের জীবনের লক্ষ্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমার সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হলো নিজের প্রতিভাকে এমন একটা জায়গায় নিয়ে যাওয়া, যেখানে নিজের নামের পাশাপাশি পরিবার ও দেশের নামও উজ্জ্বল করতে পারি।’ 

নিজের এই অবশ্বাস্য দক্ষতার জন্য ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও পেয়েছেন সায়াম হায়দার। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে এক মিনিটে পাঁচবার টেনিস র‍্যাকেটের ফ্রেমের ভেতর দিয়ে বের হওয়ার রেকর্ডের স্বীকৃতি দেয় ইন্টারন্যাশনাল বুক অব রেকর্ডস।