ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশে স্বৈরতন্ত্র চালু করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন দেশটির জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি। আজ রোববার এক ভিডিওবার্তায় তিনি এ অভিযোগ করেন।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবিতে চলমান আন্দোলন ঘিরে শনিবার সকালে আটক করা হয়েছিল ধ্রুবকে। গভীররাতে ছেড়ে দেওয়া হয় তাকে। ধ্রুবের অভিযোগ, সকালে তাঁর বাড়িতে ঢুকে শোয়ার ঘর থেকে তাঁকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। জুতা পরার সময়টুকুও দেওয়া হয়নি।
ঘটনা বর্ণনা করতে করতে তিনি বলেন, আমি ঘুমাচ্ছিলাম। সকাল ৭টা নাগাদ বাড়ির বাইরে লোকজন ঘোরাফেরা করছে দেখে আমার মা দরজা খোলেন। কোনও পুলিশ ছিল না। সাধারণ পোশাক পরা লোকজন আমার মাকে ধাক্কা মেরে ভিতরে ঢোকেন এবং সোজা চলে আসেন আমার শোয়ার ঘরে। মা চিৎকার করছিলেন। আমি ঘুম ভেঙে উঠে কিছু বলা বা করার সুযোগ পাইনি। জুতা পরার সময়টুকুও আমাকে দেওয়া হয়নি।
ধ্রুব রাঠি বলেন, আমাকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বাড়ি থেকে। অপহরণ শব্দটাই আমি ব্যবহার করতে চাই। কারণ, এটা কোনও গ্রেপ্তার বা আটক নয়। যদি কোথাও প্রতিবাদ আন্দোলন করতে যেতাম, সেখান থেকে ধরলে তাকে আটক বলা যেত। গুন্ডা পাঠিয়ে আমাকে অপহরণ করা হয়েছে। বাড়িতে তখন আমি, বাবা, মা ছাড়া আর কেউ ছিল না।
তাঁর কথায়, ‘আমার ফোন, আমার বাবা-মায়ের ফোন শুরুতেই ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল। থানায় গিয়ে আমি আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলতে চাই। সেই সুযোগ দেওয়া হয়নি। ফোনও ব্যবহার করতে দেয়নি। শুধু বলা হচ্ছিল, ‘এটা গ্রেপ্তার নয়, আটক নয়। আপনাকে ছেড়ে দেওয়া হবে’। টানা ২২-২৩ ঘণ্টা আমাকে আটকে রাখা হয়েছিল। একে অপহরণ ছাড়া আর কী বলব?’
নরেন্দ্র মোদি সরকারকে কটাক্ষ করে ধ্রুব বলেন, কোনও গণতান্ত্রিক দেশে কি কখনও এটা দেখা যায়? একজন সাধারণ নাগরিক, যিনি কোনও আইন ভাঙেননি, কেবল সত্যের পক্ষে সরব হয়েছেন, তাঁর বাড়িতে ঢুকে শোয়ার ঘর থেকে তাঁকে অপহরণ করা হচ্ছে, তাঁর বাবা-মার সঙ্গে মারপিট, হাতাহাতি করা হচ্ছে। এটা গণতন্ত্রে হতে পারে না। মোদি এই দেশে স্বৈরতন্ত্র চালু করে দিয়েছেন। সোজা কথায়, অঘোষিত জরুরি অবস্থা চলছে। এ সব জরুরি অবস্থার সময় হত। উত্তর কোরিয়ায় হয়।