ইসরায়েলে হামলা জোরদার করেছে ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস। পাল্টা হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েলও। এতে হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে। এর মধ্যে গাজা থেকে বহু হামাস যোদ্ধা ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে প্রবেশ করে সেনাসদস্যদের পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকদের জিম্মি করছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। জিম্মি হওয়াদের মধ্যে আছে— শিশু, নারী, বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধীরাও। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র জানান, জিম্মি হওয়া এসব ব্যক্তির মধ্যে কেউ কেউ বেঁচে আছে। আবার কাউকে মেরে ফেলা হয়েছে।
ফ্রি প্রেস জার্নালে প্রকাশিত এক খবরে বলা হয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে হামাস যোদ্ধাদের নির্যাতনের বিভিন্ন ভিডিওচিত্র। সেসবে দেখা যাচ্ছে, হামাস যোদ্ধারা গাজা উপত্যকা দিয়ে অনুপ্রবেশ করছে। গাড়িতে নারীদের টেনে তোলা হচ্ছে। ফাঁকা গুলি ও মিসাইল ছুড়ছে। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক তরুণীর অর্ধ-নগ্ন মরদেহ গাড়ির পেছনে নিয়ে উল্লাস করছে হামাস যোদ্ধারা। মরদেহের ওপরে বসে আছে একজন। পাশে হামাস সমর্থকেরা উল্লাস করছে, পাশাপাশি দৌড়াচ্ছে এবং গায়ে থুথু দিচ্ছে।
ভিডিওর ওই মৃত তরুণীর পরিচয় মিলেছে। নিউইয়র্ক পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, ওই তরুণী ছিলেন একজন জার্মান ট্যাটু শিল্পী। ৩০ বছর বয়সী ওই তরুণীর নাম শানি নিকোল লুক। একটি সংগীত উৎসবে অংশ নিতে ইসরায়েলে অবস্থান করছিলেন তিনি। হামাসের অপহরণের শিকার একদল পর্যটকের মধ্যে শানিও ছিলেন বলে জানাচ্ছে বিভিন্ন পশ্চিমা গণমাধ্যম।
শানির মা আরও বলেন, ‘আমরা একটি ভিডিও পাই, যেখানে আমি পরিষ্কারভাবে দেখতে পাচ্ছি আমাদের মেয়েকে গাজা উপত্যকায় গাড়িতে করে অচেতন অবস্থায় হামাস সদস্যরা নিয়ে যাচ্ছে। আমি আমার মেয়ের খবর জানতে চাই।’
এদিকে বিবিসির খবরে জানা যায়, গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় গতকাল শনিবার থেকে আজ রোববার পর্যন্ত ৩ শতাধিক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন প্রায় দুই হাজার। হতাহতের এ খবর জানিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। আর ইসরায়েলে হামাসের চালানো হামলায় অন্তত ৩০০ ইসরায়েলি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে তুরস্কের ইসরায়েলি দূতাবাস। ইসরায়েলি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে দূতাবাস এ তথ্য জানিয়েছে।