আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বিদেশি বন্দীদের ছেড়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে গাজার স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস। গতকাল মঙ্গলবার টেলিভিশনে দেওয়া বক্তৃতায় হামাসের এজেদিন আল-কাসাম ব্রিগেডের মুখপাত্র আবু ওবেদা এ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বলে এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
আবু ওবেদা বলেন, আমরা মধ্যস্থতাকারীদের জানিয়েছি যে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে নির্দিষ্ট সংখ্যক বিদেশীকে মুক্তি দেব। কারণ গাজাকে আমরা ইসরায়েলি সেনাদের কবরস্থানে পরিণত করতে চাই।
এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজায় এই মুহূর্তে হামাসের হাতে অন্তত ২৪০জন জিম্মি রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে পাঁচজন বন্দীকে মুক্তি দিয়েছে হামাস। মুক্তি পাওয়া জিম্মিদের মধ্যে একজন ইসরায়েলের সেনাও রয়েছেন।
এদিকে গতকার মঙ্গলবার গাজা উপত্যকার জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী। এতে হামাসের কেন্দ্রীয় জাবালিয়া ব্যাটালিয়নের কমান্ডার ইব্রাহিম বিয়ারি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইসরায়েল। একই সময়ে আরও অন্তত ৫০জন নিহত হয়েছেন। তবে হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম ইসরায়েলের দাবিকে অস্বীকার করেছেন।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর স্থল অভিযান শুরু করার পর হামাসের সামরিক অভিযানগুলো তত্ত্বাবধান করতেন ইব্রাহিম বিয়ারি। কয়েক দশক আগে ইসরায়েলে একাধিক হামলার সঙ্গেও তিনি জড়িত ছিলেন। গতকাল জাবালিয়া ক্যাম্পে বিমান হামলা চালিয়ে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে।
এ ছাড়া গতকাল মঙ্গলবার ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলীয় লোহিত সাগরের তীরবর্তী শহর ইলাতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীগোষ্ঠী। ইয়েমেনের হুথি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী আব্দেলআজিজ বিন হাবতৌর ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে এ হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলেছে, ইলাতের বাসিন্দাদের সতর্ক করে দিতে হামলার পর সাইরেন বাজানো হয়। তবে এ হামলায় কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
গাজা উপত্যকায় গত ২৪ দিন ধরে সংঘাত চলছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ দিনের সংঘাতে ৮ হাজার ৫২৫জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে সাড়ে ৩ হাজারেরও বেশি শিশু রয়েছে। গত ৭ অক্টোবর হামাসের আকস্মিক হামলার পর গাজায় হামলা শুরু করে ইসরায়েল।