গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর ঋণ বেড়েছে ইসরায়েলের

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় যুদ্ধ শুরুর করার পর থেকে ইসরায়েলের ঋণের বোঝা ক্রমাগত বাড়ছে। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে ইসরায়েলের ঋণ বেড়েছে প্রায় ৮০০ কোটি ডলার। এই বিপুল পরিমাণ ঋণ ইসরায়েলের অর্থনীতিকে বড় ধরনের ধাক্কা দেবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অর্থনীতিবিদেরা।

ইসরায়েলের অর্থ মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, গাজার স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালাতে গিয়ে সামরিক খাতে ব্যয় বেড়েছে ইসরায়েলের। এ ছাড়া হামাসের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত সীমান্তবর্তী ইসরায়েলি পরিবারগুলোকে মোটা অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দিতে গিয়েও ব্যয় বেড়েছে। ফলে স্বাভাবিক নিয়মেই কমে গেছে সরকারের আয়। এমন পরিস্থিতিতে গত মাসে ইসরায়েলের বাজেট ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২৯০ কোটি শেকেল (ইসরায়েলি মুদ্রা)। এটি একটি রেকর্ড। গত সেপ্টেম্বরেও বাজেট ঘাটতি ছিল মাত্র ৩৬০ কোটি শেকেল।

বাজেট ঘাটতি সত্ত্বেও উদ্ভূত যুদ্ধকালীন চাহিদা পূরণ করতে সরকারকে অর্থায়ন অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলের অর্থ মন্ত্রণালয়। 

এ দিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে বলেছে, ইসরায়েলের প্রায় ৩ লাখ ৬০ হাজার সামরিক বাহিনীর রিজার্ভ সদস্য তাদের চাকরি ও ব্যবসা–বাণিজ্য ছেড়ে সামরিক দায়িত্ব পালনে নিয়োজিত হচ্ছেন। এ কারণেও অর্থনীতির কিছু অংশ স্থবির হয়ে যাচ্ছে।

ইসরায়েলের প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি মূলত প্রযুক্তি শিল্প। সেটিরও গতি হঠাৎ করে কমে গেছে। এ ছাড়া একটি বড় অফশোর প্রাকৃতিক গ্যাস ক্ষেত্রের উৎপাদনও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এসবের ব্যাপক প্রভাব পড়েছে অর্থনীতিতে।

ব্রিটিশ সাময়ীকি দ্য ইকোনমিস্ট জানিয়েছে, অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের দেশগুলোর মধ্যে গত বছর চতুর্থ সেরা পারফর্মিং অর্থনীতি ছিল ইসরায়েল। কিন্তু যুদ্ধের কারণে সেই অগ্রগতিতে ভাটা পড়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৭ অক্টোবর থেকে ইসরায়েলের ক্রমাগত হামলায় এখন পর্যন্ত গাজায় ১১ হাজার ২০০ এরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে হামাসের হামলায় ইসরায়েলের ১ হাজার ২০০ মানুষ নিহত হয়েছেন বলে দেশটি দাবি করেছে।